ফেডারেশনের নির্দেশ ছিল, ৪ নভেম্বরের মধ্যে রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই কারণেই মনে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইএফএ-র নির্বাচন হবে। কিন্তু পুজোর মরশুমে ২৪ অক্টোবর স্পেশাল জেনারেল মিটিং ডেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। পুজোর আবহে সংস্থার যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে আগেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল আইএফএ। অবশেষে শনিবার আইএফএ-র বৈঠকে জানা গেল, আগামী ১৪ নভেম্বর রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
শনিবারের বৈঠকে নতুন সংবিধান গৃহীত হল আইএফএ-তে। সেই সঙ্গে নতুন সংবিধান মেনে সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও নির্বাচনের দিনক্ষণও চূড়ান্ত হল। আগামী ১৪ নভেম্বর নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গঠিত হবে আইএফএ-র নতুন কমিটি। বৈঠক শেষে সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “আজকের বৈঠকে সংবিধান গৃহীত হয়েছে। নতুন সংবিধান অনুযায়ী এজিএম ও নির্বাচনের তারিখও সাধারণ সভার অনুমোদন নিয়ে স্থির করা হয়েছে। সেই মতো নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে দেব। ১৪ নভেম্বর নির্বাচন। এর মাধ্যমেই নতুন কমিটি গঠিত হবে।”
নির্বাচন প্রক্রিয়ার কীভাবে হবে জানিয়ে অনির্বাণ বলেন, “২৮ অক্টোবর ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করব। সেই তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে তা জানানোর শেষ দিন ৩০ অক্টোবর। ৩১ অক্টোবর থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আপত্তি জমা পড়লে ১ নভেম্বর তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৭ নভেম্বর হবে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি ও শুনানি। ৯ নভেম্বর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ১১ নভেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। তার পর ১৪ নভেম্বর নির্বাচন।”
প্রতি বছর আইএফএ নির্বাচনে ভোট দিতে পারতেন শুধুমাত্র গভর্নিং বডির সদস্যরা। কিন্তু স্পোর্টস কোড অনুযায়ী এবার ফেডারেশনের যে সংবিধান তৈরি হযেছে, তাতে গভর্নিং বডির সদস্য নয়, ভোট দিতে পারবেন আইএফএ অনুমোদিত ৩০৯ ক্লাবের প্রতিনিধিরাই। সঙ্গে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি। রেফারিদের প্রতিনিধি। এমনকী ভোট দেবেন কোচদের প্রতিনিধিও। ইতিমধ্যেই আইএফএর সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, নতুন স্পোর্টস কোড অনুযায়ী, সত্তরোর্ধ্ব কেউ অধীনস্থ সংস্থার প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না। ভোটে জিতে সভাপতি পদে প্রত্যাবর্তনও আর হবে না তাঁর।
