জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আসন্ন দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানায় সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য যে ফি নির্ধারণ করেছে, তা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও টিউশন করে পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি সমাবর্তনের জন্য অতিরিক্ত উচ্চ ফি নির্ধারণ করা অনেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করছে। একটি গণমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী এ ধরনের ফি নির্ধারণ করা উচিত নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তারা আরও বলেন, সমাবর্তন কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আনন্দের দিন। তাই সমাবর্তনের ফি এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক যোগ্য শিক্ষার্থী এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।
বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে সমাবর্তনের ফি দ্রুত যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গগত, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্নাতক (সম্মান)/বিবিএ/সমমানের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তর/এমবিএ/সমমানের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এমফিল/পিএইচডিতে ৬ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার এবং প্রফেশনাল/সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামে ৮ হাজার ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যা প্রথম সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি এর প্রায় দ্বিগুণ। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এমএন
