ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণসহ পুরো বন্দরনগরী এখন বর্ণিল সাজে সেজেছে। আগামীকালের (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে পুরো নগরীতে বইছে উৎসবের আবহ। এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সার্বিক প্রস্তুতি ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের সার্বিক প্রস্তুতি এবং জে এম সেন হলের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিরলস প্রচেষ্টায় জে এম সেন হলের চত্বরকে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। আমরা চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী এখানে পা রাখলেই যেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মোহনীয় রূপ দেখতে পান।
চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে মেয়র বলেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, মাস্টারদা সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসের মতো ক্ষণজন্মা বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলো একসময় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে ছিল। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কার ও দৃষ্টিনন্দন উপায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সরকারপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে ভিআইপি সড়ক পর্যন্ত পুরো যাতায়াত পথ বিশেষভাবে সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সড়কের দুই ধার থেকে সব ধরনের অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নবনির্মিত সাইকেল ট্র্যাক, বোট ক্লাব সড়ক এবং নগরীর প্রধান ধমনীগুলোতে বর্ষা-পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ এখন দৃশ্যমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে অন্যরকম উদ্দীপনা। এ বিষয়ে মেয়র জানান, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীসমাজ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এই সফরটি একটি ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর আয়োজনে রূপ নেবে। এছাড়া নগরবাসীর অবসর সময় কাটানোর প্রিয় এলাকা জামালখানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, এই স্থানটিকে আরও বেশি জনবান্ধব, আকর্ষণীয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করে গড়ে তুলতে বিশেষ রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
