আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে জিতল ভারত। একসময়ে জেতার জন্য ১২ বলে দরকার ছিল ২৯ রান। হাতে উইকেট কম, ক্রমশ বাড়ছে রান তোলার চাপ। মনে হচ্ছিল, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারতে চলেছে ভারত। তার আগে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ভারত নিজেদেরই বিপন্ন করেছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন তিলক ভার্মা, নমন ধীর ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে কঠিন অঙ্ককে সহজ করে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। এই জয়ের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ১৮০/৫। ভারত এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল। জয়ের রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি ভারত। অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন দ্রুত রান তুলছিলেন। কিন্তু স্যামসন ফিরে যাওয়ার পর থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা, শ্রেয়স আইয়ার এবং অক্ষর প্যাটেলের মতো ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে ম্যাচ। উপস্থিত দর্শকরাও ধরে নিয়েছিলেন ভারত হয়তো হেরে যাবে। কেউই প্রত্যাশা করেননি তিলক ভার্মা প্রত্যাঘাত হানবেন।
হাল ছাড়েননি নমন ধীরও। মাত্র ১৭ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। তাঁর ব্যাটে আসে একটি চার ও তিনটি ছয়। তবে মিচেল স্যান্টনারের বলে আউট হয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁকেও। তখনও ম্যাচ ভারতের হাত থেকে প্রায় বেরিয়ে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল।
ঠিক সেই সময়ই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিলক। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করতে থাকেন তিনি। সঙ্গে যোগ দেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। দু’জনের জুটি ম্যাচের ছবিটাই বদলে দেয়। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন তাঁরা।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে শেষ দুই ওভারে। যখন ১২ বলে জিততে দরকার ২৯ রান, তখনও ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। অবশ্য আইপিএলের দুনিয়ায় এর থেকেও কঠিন টার্গেট তুলে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। কিন্তু এ তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তাও আবার বিদেশের মাটিতে খেলা। তিলক ও নীতীশের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেই ব্যবধান কমতে থাকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১১ রান তুলে নিয়ে ভারত নিশ্চিত করে অবিশ্বাস্য জয়। জয়ের নায়ক তিলক ২৬ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন নীতীশ রেড্ডিও। জয়ের পর নীতীশ রেড্ডি আর তিলক ভার্মার প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছিল তাঁরা কতটা খুশি। ডাগ আউটে বসে থাকা দলের বাকি সদস্যদের মুখেও ছিল যুদ্ধ জেতার তৃপ্তি।
এই ম্যাচে ভারত বুঝিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ বলের আগে কোনও দলকেই হারানো যায় না। একের পর এক উইকেট হারিয়েও যে ভাবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ালেন তিলক, নমন ও নীতীশ, তা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে গ্লেন ফিলিপস করেন ৭০ রান এবং বেভন জ্যাকবসের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং নেন দুটি উইকেট। নীতীশ কুমার রেড্ডি, প্রিন্স যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমার পান একটি করে উইকেট।
সিরিজের লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পরপর দুই ম্যাচ জিতে এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। এই প্রত্যাবর্তনের পর ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
