Published on
:
2 min read
এই সময়, ঢাকা: 'ধর্ম অবমাননা'র অভিযোগে বাংলাদেশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে দু'দফায় পিটিয়ে মেরেই ফেলল উগ্রবাদী ধর্মান্ধ জনতা! বীভৎস এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া সাতক্ষীরার দেবহাটায়। ফেসবুকে আল্লা, কোরান নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ভয়ঙ্কর গণপিটুনি! প্রথম দফায় মারধরের পরে বছর তেতাল্লিশের যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে প্রথমে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। রাতে সেখান থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অবস্থার অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।
২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার তকমা দিয়ে গণপিটুনিতে খুনের ঘটনা বেড়ে চললেও সরকার কোনও পদক্ষেপই করেনি বলে অভিযোগ। গত বছর ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানার কর্মী দীপুচন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে শুধু খুন নয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের পাশে একটি গাছে তাঁর দেহ ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্তা বলেন, 'রাতে শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে অন্য রোগীদের সামনে ওয়ার্ডের ভিতরে শামীমকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আবার মারধর করা হয়।'
স্থানীয় সূত্রের খবর, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীমকে একদল যুবক প্রথম দফায় তাঁর বাড়িতে ঢুকে মারধর করে ফেলে যাওয়ার পরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই যুবক। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে দ্বিতীয় দফায় রীতিমতো মাইকিং করে লোক জড়ো করে হাসপাতালের বেড থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে অরেক দফা গণপিটুনি দেয় উন্মত্ত জনতা। অভিযোগের আঙুল তৌহিদি মুসলিম-এর দিকে। দলবদ্ধ মারে আধমরা শামীমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরার অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
নিহতের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শামীম বাড়ি ফেরার পথে 'অজ্ঞান পার্টি'র খপ্পরে পড়েছিলেন। অচেতন অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। এর পর থেকেই শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন বলে দাবি পরিবারের। তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কিছু লেখালিখি বা অডিয়ো প্রকাশের পরেই সোমবার রাতে গণপিটুনির শিকার হন শামীম। জলিলের দাবি, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই হামলা ও মারধরে জড়িত।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি-ও বলেন, 'রাত ৯টা নাগাদ ২০০ থেকে ২৫০ লোক হাসপাতালে গিয়ে শামীমকে চিকিৎসা দিতে বাধা দেয়। পুলিশ, আনসার সদস্য ও চিকিৎসকেরা বাধা দিলেও তারা শোনেনি। একপর্যায়ে পেছনের দরজা ভেঙে ওয়ার্ডে ঢুকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়।' মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পুলিশ কেন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করবে না, সেই প্রশ্ন উঠছে।