শ্রমিকদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন
গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সি স্টেজ বিডি লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক তরিকুল, মাহফুজ ও হাসমত আলী জানান, গত ১০ অক্টোবরের আন্দোলনের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বেতন দেয়া হয়নি। গতকাল বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে। এর মধ্যে আজ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। এসময় শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বেতনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে শ্রমিকরা সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে অবরোধ অব্যাহত রাখেন। পরে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম বলেন, সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের শ্রমিকরা সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা অবরোধ অব্যাহত রাখেন। পরে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতন পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে শ্রমিকদের যে অভিযোগ, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার।
