প্রকাশিত: ০৮:৪২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ০৮:৪৭, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলেই মিলতে পারত শেষ চারে ওঠার টিকিট। কিন্তু ব্যাটে-বলে ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। প্রোটিয়াদের কাছে বড় হারে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (ডব্লিউসিএল) থেকে বিদায় নিতে হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শারজায় টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য তাড়ায় ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় রিয়াদ অ্যান্ড ব্রাদার্স। ৮৮ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতে উইকেট পেলেও প্রতিপক্ষের রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ব্যাটার হিসেবে ডু প্লেসিসকে সাজঘরে ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪ বলে ১৮ রান করেন তিনি।
এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন জেপি ডুমিনি। ওয়েন পারনেল ১৩ বলে ২২ রান করে ফিরলেও রানের গতি ধরে রাখেন ডুমিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।
মর্নে ভ্যান উইক ১৯ বলে ৩০ রান করে আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন কলিন ইনগ্রাম। তার ব্যাটিং তাণ্ডবেই দুইশ পেরিয়ে যায় প্রোটিয়াদের সংগ্রহ।
৪৯ বলে ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ডুমিনি। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।
সেমিফাইনালে উঠতে হলে ২১১ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশকে তাড়া করতে হতো মাত্র ১১.৫ ওভারে। কঠিন এই সমীকরণ মেলাতে নেমে শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।
দলীয় ৪ রানেই প্রথম দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর আগেই আরো একটি উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে দল। শুরুতেই এমন বিপর্যয়ের পর ম্যাচে ফেরার পথ কঠিন হয়ে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের।
একপ্রান্তে উইকেটের পতন চললেও পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ২৬ বলে ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষদিকে আরাফাত সানি ৩০ বলে ৩১ রান করেন। তবে, মাঝের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জয়ের কোনো সম্ভাবনাই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে প্রত্যাশিত লড়াই গড়ার আগেই আসর থেকে ছিটকে যেতে হলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে।
