পুজোর দিনগুলোয় কোথায় কোথায় ঠাকুর দেখতে যাবেন, সেই পরিকল্পনা এখন তুঙ্গে। কোন পুজোয় কী হচ্ছে, থিম-মণ্ডপ-প্রতিমা-আলো কোথায় কেমন— তার খোঁজ করছেন সকলেই। হাতে আর ক’টাই বা দিন বাকি!
মুশকিল আসানে উত্তর কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী পুজোর খোঁজ দেওয়া যাক। নলীন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গোৎসব। উদ্যোক্তাদের তরফে সভাপতি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের পুজো এ বার ৯৪তম বর্ষে পা দিল। এ বছর থিম ‘জললিপি’। এই মণ্ডপের ভাবনা, আলোকসজ্জা এবং প্রতিমা, সবই শিল্পী সনাতন দিন্দার তৈরি।”
এই পুজোর থিম ঘিরে রয়েছে গঙ্গা নদীকে। নদীমাতৃক এই দেশের জীবনে জল যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। গঙ্গা নদীকে মা বলে ডাকে আপামর ভারতবাসী। কিন্তু সত্যিই কি মায়ের সম্মান দেওয়া হয় তাকে?
যে নদীর দুই ধারে গড়ে উঠেছে জনবসতি, কলকারখানা, শহর, নগর, সে নদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা দূরে থাক, বরং প্রতিনিয়ত তাকে দূষণে ভরিয়ে দেওয়াই আজ দস্তুর। বাড়িঘরের আবর্জনা থেকে বড় বড় কলকারখানার বর্জ্য, সবই গিয়ে মিশছে নদীতে। জলাজমি বুজিয়ে কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে তোলা, দেদার জলের অপচয়ের হাত ধরে কমছে জলস্তর। যা ডেকে আনছে ভয়াবহ জলসঙ্কটের এক কঠিন ভবিষ্যৎ।
দূষণ, বেহিসেবি নগরায়ণ, অপচয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে গঙ্গা নদী তো বটেই, সঙ্গে সামগ্রিক ভাবে জল বাঁচানোর ভাবনাই এ বার উঠে এসেছে নলীন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীনের থিমে। যে নদীর উপকূল মানুষকে থাকতে দিল, উর্বর চাষের মাটি দিল, খাবার জল দিল, দিল আরো কত কী— সেই নদীকে বাঁচাতে হবে নিজেদেরই নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের জন্য। মণ্ডপসজ্জা, আলো, প্রতিমার মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চান শিল্পী সনাতন দিন্দা।
নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীনের পুজো দেখতে যেতে হলে নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন শোভাবাজার সুতানুটি। স্টেশনের তিন নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে অটোয় নলিন সরকার স্ট্রিট। যেখানে নামবেন, তার ঠিক উল্টো দিকেই এই মণ্ডপ। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে এলে বিধাননগর স্টেশনে নেমে অটো পেয়ে যাবেন। যদি কলকাতা স্টেশন থেকে যান, তবে ট্রেন থেকে নেমে বাসে চলে যেতে পারেন খান্না সিনেমা। সেখান থেকে হাতিবাগানের রাস্তা ধরে সামান্য এগোলেই এই পুজো মণ্ডপ।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
