তেহরান,১৯ অক্টোবর-ওমান উপকূলে নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচলের সময় প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিস্ফোরণের পর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। ইরানের দাবি, ট্যাংকারটি অনুমোদনহীন পথে চলাচল করছিল এবং এর অবস্থান শনাক্ত করার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে আরোপ করা চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করায় জাহাজটি তাদের নজরে আসে। তবে ট্যাংকারটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী, এর মালিকানা এবং জাহাজের ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ ঘটনায় সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকারেও একই ধরনের ঘটনার খবর জানিয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুটি ট্যাংকারে মাইনের আঘাতে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) ওই অঞ্চলে জাহাজে একাধিক হামলার খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ, জাহাজ চলাচলের ব্যয় এবং বিমার প্রিমিয়াম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে সর্বশেষ তেলবাহী ট্যাংকারটি সামুদ্রিক মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।
এস এম/ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
