সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর মামলায় মো. রাকিব হোসেনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় প্রথম যে মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছিল, সেটির মালিক হলেন রাকিব।
ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালত গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মামলার পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় এই আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা নেই। আশা করছি, খুব শিগগির তিনি কারামুক্ত হবেন।’
আইনজীবী মেহেদী হাসান মজুমদার বলেন, প্রথমে যে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছিল তার মালিক রাকিব হোসেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছিনতাই করার সময় এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় সেটা গ্যারেজে ছিল। সেই সিসিটিভি ভিডিও রয়েছে। পরে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত আসল মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। শুধু হয়রানি করার জন্য এই আসামিকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল।
গত ৩১ আগস্ট রাকিবের পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট চোখের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় আসেন। ওই দিন স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অটোরিকশা করে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। ছিনতাইকারীর টানে রনজিলা চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচ- আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় রোববার মামলা করেন।