বড় অঙ্কের স্বাস্থ্য বিমা থাকলেই নিশ্চিন্তির কারণ নেই। স্বাস্থ্যবিমায় বাধ্যতামূলক ‘সহ-পরিশোধ’ বা ‘কো-পেমেন্ট’ চালুর প্রস্তাবে নজর দিয়েছে জেনারেল ইনসিওরন্সে কাউন্সিল ‘জিআইসি’। যার অর্থ হল বিমা সংস্থা ব্যয়ভার বহন করলেও একটা অংশের বিল বহন করতেই হবে বিমাকারীর পরিবারকে।
স্বাস্থ্য বিমায় ‘পণ্য ও পরিষেবা কর’ বা জিএসটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। যার ফলে কমেছে বিমার অর্থে মাসিক কিস্তির অঙ্ক। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট বিমায় বিনিয়োগের ব্যাপারে আমজনতার মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। যদিও আগামিদিনে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এর খরচ। কারণ এবার যোগ হচ্ছে কো পেমেন্ট ব্যবস্থা। অর্থাৎ খরচ ভাগাভাগির ব্যবস্থা। এই বিষয়ে জিআইসির প্রস্তাবে সিলমোহর পড়লে, গ্রাহকের চিকিৎসার একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যয়ভার বহন করবে বিমা সংস্থা। বাকি অর্থ নিজের পকেট থেকে দিতে হবে বিমাকারীকে। সেটার পরিমাণ বাধ্যতামূলক ভাবে ১০ শতাংশ করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্র বলা ভালো নরেন্দ্র মোদি সরকার।
অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ টাকা বিল হলে হাসপাতালকে তার দশ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা পকেট থেকে দিতে বাধ্য থাকবে রোগীর পরিবার। তবে বাধ্যতামূলক ‘কো-পেমেন্ট’ চালুর প্রস্তাবে এর একটা ঊর্ধ্বসীমা রাখার ব্যাপারেও জিআইসির অন্দরে চলছে আলোচনা। স্বাস্থ্যবিমার প্রতিটা ‘ক্লেম’ বা দাবিতে রোগীর পরিবারে তরফে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। এই কো পেমেন্ট বা যৌথ পেমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলে নিশ্চিতভাবেই বাড়বে গ্রাহকের খরচ। তখন বিমার কিস্তির পাশাপাশি অসুস্থতার সময়ও নিশ্চিতভাবেই একটা অংশের টাকা দিতে হবে তাঁকে। ফলে, সে দিকেও নজর দিতে হচ্ছে জেনারেল ইনসিওরেন্স কাউন্সিলকে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, বাধ্যতামূলক ‘কো-পেমেন্ট’ চালু হলে স্বাস্থ্য বিমার কিস্তির অঙ্ক কমাতে পারে কেন্দ্র। বর্তমানে কো পেমেন্ট ব্যবস্থাটি কেবলমাত্র ৬০ বছরেরর বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রয়েছে। কারণ, প্রবীণ নাগরিকদের অসুস্থতার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। তার থেকে বিমা সংস্থার লাভের অঙ্ক কম থাকাতেই এই কো পেমেন্ট চালু রয়েছে। এবার সব বিমা গ্রাহকের পকেটেই এই টান পড়তে পারে।
