পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধ্যায় কি তবে শেষ হতে চলেছে? কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য, অভিমান থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া-সব মিলিয়ে তেমন আশঙ্কাই তৈরি হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের মনে! কিন্তু সেই আশঙ্কার মাঝেই মিলেছে স্বস্তির খবর। শাস্তি পেলেও পর্তুগাল জাতীয় দলে ফেরার দরজা বন্ধ হয়নি এই মহাতারকার জন্য। বরং পরিস্থিতির সমাধান হলে রোনালদোকে আবারও মাঠে দেখতে চায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা। সোমবার ঘোষিত এই শাস্তির মধ্য দিয়ে কোচের সঙ্গে বিরোধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক পরিণতি পেল রোনালদোর বিতর্কিত অধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে। পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর দূরত্ব তৈরি হয়। তার দাবি ছিল, কোচ তাকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও একাদশের বাইরে থাকার খবর পেয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক।
বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ফেডারেশন। ৯ অক্টোবর রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়। শৃঙ্খলা কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। তবে শাস্তি নির্ধারণের সময় তার অনুশোচনা, ফুটবলে অবদান ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজের পুরস্কার ও অর্জনের তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্তও জমা দিয়েছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার।
রোনালদো নিজেও ঘটনার পর অনুতপ্ত ছিলেন। সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, সমর্থকদের কাছেও নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমনকি দলের অধিনায়ক হিসেবে তার আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই শাস্তিই ঘোষণা করল ফেডারেশন।
তবে শাস্তির মেয়াদ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় আগের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি ফেডারেশন। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের দিন থেকে গণনা করা হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে ১৯ দিনের শাস্তি কাটিয়ে ফেলেছেন রোনালদো। বাকি সময় শেষ হতে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচের আগেই নিষেধাজ্ঞা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শাস্তির কারণে জাতীয় দলের কোনো ম্যাচ মিস না-ও করতে হতে পারে তাকে।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসাও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তার বক্তব্য, বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলে সবাই রোনালদোকে আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে দেখতে চায়। তবে আগামী ১৫ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি ফেডারেশন সভাপতি।
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অবদানও এমন যে তাকে ঘিরে আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল-দুই ক্ষেত্রেই পুরুষ ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড তার। তার নেতৃত্বেই ইউরো ২০১৬ ও দুটি নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলা এই ফরোয়ার্ডের বয়স ৪১ পেরিয়েছে, তবু গোলের ক্ষুধা কমেনি। ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে প্রয়োজন আর মাত্র ১৯ গোল!
রোনালদোর সামনে এখন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-শৃঙ্খলাভঙ্গের বিতর্ক পেছনে ফেলে জাতীয় দলে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের নতুন লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া। পর্তুগালও যে তার ফেরার অপেক্ষায়, ফেডারেশন সভাপতির বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট। কোচের সঙ্গে দূরত্ব কতটা কমেছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শাস্তির অধ্যায় শেষ হলে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন!
