পাগলা মসজিদে বিপুল দান: মিলল ২৫ কেজি সোনা-রুপা ও ১৭ দেশের মুদ্রা
দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় ২৫ কেজি সোনা-রুপা এবং ১৭টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া.............................
বাংলাদেশ
জার্নাল ডেস্কদীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় ২৫ কেজি সোনা-রুপা এবং ১৭টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন ও ক্যারেট যাচাই এবং মুদ্রা গণনার কাজ চলে।
জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্যের নিবিড় পর্যবেক্ষণে স্বর্ণালংকার ও রুপার ওজন নির্ধারণ করা হয়। গণনায় ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালংকার (প্রায় ১২ দশমিক ১৮ কেজি) এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা (প্রায় ১২ দশমিক ৬৯ কেজি) পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দানবাক্সে পাওয়া সোনা ও রুপার মোট ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কেজি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব মূল্যবান সামগ্রী এতদিন জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা করা খামে সংরক্ষিত ছিল।
সোনা ও রুপার পাশাপাশি দানবাক্সে ১৭টি ভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ মুদ্রার খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৮ হাজার ৫৭ মার্কিন ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ১৪ হাজার ২৪০ আমিরাতের দিরহাম, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো এবং ১ হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড। এছাড়াও কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালদ্বীপ ও চীনের মুদ্রাসহ বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের একটি উপকমিটির মাধ্যমে এই গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ওজন নির্ধারণ শেষে এসব স্বর্ণালংকার ও রুপার বাজারমূল্য যাচাই করে দ্রুতই নিলামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি, প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী টাকায় রূপান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ