আইন ও বিচার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অন্যতম প্রধান আশ্রয় আদালত। অথচ সেই আদালতেরই নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে পুরোনো আদালত ভবন। সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ না থাকায় পরিত্যক্ত ভবনটি দিন দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, নিজস্ব ভবনে বিচারিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর চারটি ছোট কক্ষে চলছে আদালতের কার্যক্রম। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়ছে।
১৯৮৪ সালে সরকারি জমিতে নির্মিত হয় মহেশখালীর পুরোনো আদালত ভবন। দীর্ঘদিন সেখানে ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে ভবনটিতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১৯৯২ সালের ২২ জুলাইয়ের ভূমিকম্পে ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল রয়েছে। চারপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অরক্ষিত পড়ে থাকায় ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ভবন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুরোনো আদালত ভবনে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় পাশের জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছে আদালতের কাজ। সেখানে ছোট চারটি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে বিচারিক কার্যক্রম। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে। নেই মানসম্মত শৌচাগার কিংবা বিচারপ্রার্থীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।
আইনজীবীদের মতে, সীমিত পরিসরে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন আদালত ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে আদালত ভবন পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রমও আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা অভিজিৎ জানান, আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। জনগণের ভোগান্তি দ্রুত কমাতে তাঁরাও কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
মহেশখালীতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিচারপ্রার্থীদের জন্য স্থায়ী ও উপযুক্ত আদালত ভবন এখনো নিশ্চিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এবং ভাড়া ভবনে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা স্থানীয় বিচারব্যবস্থার অবকাঠামোগত সংকটকে সামনে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
