ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছেন জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন।
দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা, একের পর এক মামলা-হামলা, বারবার কারাবরণ এবং চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া এই পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় তরুণ নেতাকেই জেলা যুবদলের নেতৃত্ব অর্পণ করতে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।
পারিবারিক সুদৃঢ় রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০০১ সালে ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় সমিনুজ্জামান সমিনের। এরপর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ২০০৩ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৫ সালে ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬–২০০৭ সালের ১/১১ সরকারের আমলে তীব্র রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হয়ে তিনি নিজ জেলা ছাড়তে বাধ্য হন। তবে রাজনীতি থেকে পিছিয়ে যাননি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০০৬–২০০৭ সাল থেকেই তিনি জবি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং তৎকালীন সকল রাজপথের আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে নিজ জেলা ঝিনাইদহে ফিরে দলের দুঃসময়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিকে গতিশীল করতে রাজপথে নামেন সমিন। ২০০৯ সালে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলা, সকল পৌরসভা, কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছাত্রদলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। ফলে তৎকালীন সময়ে ছাত্রদল ঝিনাইদহে রাজপথের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং যুবদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমিনুজ্জামান সমিনের পারিবারিক ইতিহাসও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর পিতা এস এম মসলেম উদ্দীন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১২ নম্বর নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মাতা এলিজা পারভীন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় ইউপি সদস্য।
উল্লেখ্য, সমিনের পিতা ও মাতা উভয়ই তৎকালীন সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘খাল কাটা’ কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
রাজপথের আন্দোলন এবং দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বারবার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন সমিন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বমোট ৪৪টি মামলার সম্মুখীন হয়েছেন এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার ও ঝিনাইদহ জেলা কারাগার মিলিয়ে ৭ বার কারাবরণ করেছেন।
নির্যাতনের চরম ঘটনা ঘটে যখন ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের সময় সমিনকে নিষ্ঠুরভাবে ‘ডান্ডাবেড়ি’ পরিয়ে নেওয়া হয়। সেসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং যুবদলের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সাথে একটি কথিত ‘পুলিশ হত্যা মামলা’র আসামি করে তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের প্রতিকূল ও সংকটের সময়েও সমিন সাধারণ কর্মীদের বুক আগলে রেখে কর্মসূচি সচল রেখেছেন। কারারুদ্ধ নেতাকর্মীদের আইনি লড়াই ও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে তিনি সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোর হাইকমান্ড বর্তমানে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সমিন।
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জোরালো অভিমত, ১/১১-এর দুঃসময় থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এই তরুণ নেতাকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হলে কেবল তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাই পূরণ হবে না, বরং ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী শক্তির সাংগঠনিক ভিত আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।