মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটি হলো নিজের প্রবৃত্তি ও মন্দ ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াই করা। বাহ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকাও একজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনের ৯১তম সুরা, সুরা শামসে মানুষের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও পরিণতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সুরা শামসের শুরুতে আল্লাহ তাআলা সূর্য, চন্দ্র, দিন, রাত, আকাশ ও পৃথিবীর শপথ করেছেন। এরপর মানুষের আত্মা এবং তাকে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের বোধ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সে সফল হয়েছে, যে নিজের আত্মাকে পবিত্র করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস, আয়াত: ৯-১০)
মানুষ সাধারণত অর্থ, সম্পদ, পদমর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাকে সফলতার মাপকাঠি মনে করে। কিন্তু সুরা শামস শেখায়, প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য আত্মাকে পবিত্র করা জরুরি। হিংসা, অহংকার, মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যের অধিকার নষ্ট করার মতো অভ্যাস থেকে দূরে থেকে নিজের চরিত্র গঠন করতে হবে।
আরও পড়ুন
আল্লাহ মানুষকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝার সামর্থ্য দিয়েছেন। তাই নিজের কাজের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা ন্যায়সংগত কি না, অন্যের ক্ষতি হচ্ছে কি না এবং আল্লাহর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুরা শামসের শেষাংশে সামুদ জাতির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল সালেহ (আ.)-এর সতর্কবার্তা অমান্য করে তারা অবাধ্যতা ও অন্যায়ের পথ বেছে নিয়েছিল। পরিণামে তারা ধ্বংস হয়েছিল। এ ঘটনা মানুষকে সতর্ক করে যে, অহংকার ও অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
দিন শেষে নিজের কাজগুলো পর্যালোচনা করা আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কারও প্রতি অন্যায় করেছি কি না, কারও অধিকার নষ্ট করেছি কি না কিংবা কোনো পাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি কি না এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। ভুল হলে তওবা করে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।
সুরা শামসের মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক অর্জনের পাশাপাশি আত্মার পবিত্রতা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্ব দেওয়া। যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে সৎপথে চলতে পারে, তার জীবনই প্রকৃত সফলতার পথে এগিয়ে যায়।
এনটি
