সংবাদ সংস্থা মুম্বই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ যখন বিশ্বজুড়ে বিস্ময় তৈরি করছে, ঠিক তখনই সেটির দৌলতেই বিনোদন জগতে এর এক ভয়াবহ ও কুৎসিত রূপ সামনে আসছে। সম্প্রতি দক্ষিণী ছবি ‘দেবরা: পার্ট ১’-এর জনপ্রিয় গান ‘চুত্তমাল্লে’-তে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের এক বিকৃত এআই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আসল গানে না থাকা দৃশ্যকে প্রযুক্তির সাহায্যে অভিনেত্রীকে আপত্তিকর ও যৌন উদ্দীপক অবতারে পরিবেশন করা হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জাহ্নবী একে 'অপরাধমূলক অপব্যবহার' বলে দাগিয়েছেন এবং বিষয়টিকে নারীদেহের ওপর এক ধরনের ‘যৌন নির্যাতনতুল্য’ অপমান বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর জুনিয়র এনটিআর, চিরঞ্জীবী এবং খুশবু সুন্দরের মতো তারকারা সোচ্চার হয়েছেন। এবার এআই-এর এই অনৈতিক ব্যবহার নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রিয়া শরণ। এই দক্ষিণী অভিনেত্রী নিজেও একাধিকবার ছবি বিকৃতির শিকার হয়েছেন। শ্রিয়া স্পষ্ট জানান, নেটদুনিয়ায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারীদের শরীরকেই বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
https://www.youtube.com/watch?v=vZCv49OXTLI&t=422s
সম্প্রতি, দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে শ্রিয়া বলেন,“ব্যাপারটা মাঝেমধ্যে এমনই অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছয় যে নিজেকে দেখে নিজেই চিনতে পারি না। স্তনের আকার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও গায়ের পোশাকটাই উধাও করে দেওয়া হচ্ছে! বিষয়টা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন এবং সত্যিই অত্যন্ত বিরক্তিকর। এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়।”
প্রযুক্তির ভাল-মন্দ দিক তুলে ধরে শ্রিয়া আরও বলেন, “এআই যেমন আমাদের কাজকে সহজ করছে, তেমনই এর এক বিপজ্জনক দিকও রয়েছে। প্রতিটি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গেই এই ঝুঁকিটা আসে। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে হয় আমাদের এর মোকাবিলা করা শিখতে হবে, না হলে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।”
২০০১ সালে ‘ইষ্টম’ ছবির মাধ্যমে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন শ্রিয়া। সেই সময়ের কথা তুলে অভিনেত্রী জানান, কিভাবে দু’দশকে সিনেমার শুটিংয়ের মেজাজ বদলে গেছে। তাঁর কথায়, “আমার প্রথম তিনটে ছবিতে কোনও মেক-আপ ভ্যানই ছিল না! গাছের ছায়ায় বসে সবাই মিলে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতাম আমরা। সেখানে সহ-শিল্পী বা পরিচালকদের সঙ্গে গান, বই কিংবা জীবন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দারুণ আড্ডা হতো। ক্যাসেট প্লেয়ারে সবাই মিলে একসঙ্গে গান শুনতাম। আর আজ সবার কানে ইয়ারফোন, পাশে বসে থাকা মানুষটা কী শুনছে সেটাও জানার উপায় নেই।”
প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং শুটিং সেটের বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন ‘দৃশ্যম’খ্যাত এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেড়েছে –“এখন ক্যামেরার সামনে কতজন নারী আছেন, তার চেয়ে বেশি নারী আছেন ক্যামেরার পেছনে। গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে কোন প্রজেক্টে টাকা ঢালা হবে—সেই সিদ্ধান্তগুলো এখন নারীরাই নিচ্ছেন”, বলেন শ্রিয়া। তিনি যোগ করেন, “শুধু খাতায়-কলমে নারীপ্রধান গল্প বানিয়ে ফেললেই হয় না, তার পেছনে থাকা মানুষগুলো যদি পুরুষ হন, তবে তাকে সত্যিকারের নারীপ্রধান সিনেমা বলা যায় না। তবে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যদিও পথ চলা এখনও অনেক বাকি।”
