আজকের পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট :
২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ২৭

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা, তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও বিকল্প রুট ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে দেশগুলো।
জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেল এবং অঞ্চলটির বিকল্প পথ ব্যবহার করে পাঠানো চালানও রয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে, অর্থাৎ ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে, এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগে-পরের এই হিসাবটিতে ইরানের তেল রপ্তানি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল, ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর, ফুজাইরাহ ও ওমানের বন্দর থেকে তেল পরিবহন এবং লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি—সব মিলিয়ে মোট সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জাহাজের চলাচল ও প্রণালি অতিক্রমের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এ হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। সংঘাতের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের অবরোধের প্রভাব পড়লেও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জাহাজে ১১৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। সাম্প্রতিক সময়ে হামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন জাহাজগুলোকেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষ্ক্রিয় জাহাজ কিনে সংস্কার করে বৈধ তেল পরিবহনে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।
তবে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো চড়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

