The Sangbad · general
গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনা: টার্গেট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
১৩/১০/২০২৬

রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ডিওএইচএস এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।"তদন্ত সূত্রে তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে মিলে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে 'ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট' নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং 'কালআজকাল.কম' নামের একটি পেজের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার কাজী গুলশান আরার সরাসরি যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০০৭ সালে লেফটেন্যান্ট হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা তৈরি করে তিনি সিকিউরিটি ৩৬০ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের সাব-ট্যাকটিক্যাল আরবান ওয়ারফেয়ার বা গেরিলা পদ্ধতির কৌশলভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিকুল ইসলাম সাদেক নামের অপর এক সাবেক কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন: বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সিএমএইচ, পপুলার হাসপাতাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নাশকতা চালানো। এ জন্য রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাসে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এর মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি বোমা, আশুলিয়ায় ‘প্রেশার কুকার বোমা’, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা ও বিস্ফোরণ, যশোরের গ্রেনেড, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিস্ফোরণ এবং সাভারের একটি মসজিদের মাঠ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বোমা উদ্ধারের মত ঘটনা রয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণে তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সিকিউরিটি কোম্পানির লজিস্টিকস ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সংগঠিত করার এই প্রয়াস দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗