উমা চলে গিয়েছেন কৈলাসে। চার দিনের উৎসব শেষে আবার চেনা ছন্দে ফিরছে জীবন। কোথাও সিঁদুরখেলার রং, কোথাও বিসর্জনের বিষাদ, আবার কোথাও প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ। দুর্গাপুজোর শেষ দিনটি বাঙালির কাছে তাই একই সঙ্গে বিদায়ের, মিলনেরও। এই দিনটিকেই বলা হয় বিজয়া দশমী। কিন্তু দশমীর সঙ্গে ‘বিজয়া’ শব্দটি জুড়ল কেন? এর নেপথ্যে রয়েছে কোন কাহিনি? সপ্তমী থেকে নবমী 'মহা' হলেও দশমীর ক্ষেত্রে নিয়ম কেন বদলে গেল?
প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে, দেবীর বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত দশমী তিথি। সেই সূত্র ধরেই এই নামকরণ। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর হয়ে ওঠেন আরও শক্তিশালী। ব্রহ্মা তাকে বর দান করেন, কোন পুরুষের দ্বারা তিনি পরাস্ত হতে পারবেন না। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল সবকিছুর দখল নেন মহিষাসুর। শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠায় দেবতারা অস্ত্র দিয়ে দুর্গাকে রণসাজে সজ্জিত করেন। নয় দিনের যুদ্ধে এই অসুরকে পরাজিত করে নিজে বিজয়ী হন দুর্গা। সেই কারণেই এই দিনের নাম 'বিজয়া' বলে মনে করেন অনেকে।
আবার জনশ্রুতি আছে, রামচন্দ্র দশমীর দিনই রাবণকে যুদ্ধে হারিয়েছিলেন। মুলত এই দিনটি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। তাই কোথাও এই দিনটি 'দসেরা' বলেও পালিত হয়। দশাননের মূর্তি পুড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিত হয় দশমী।
শুধু হিন্দু ধর্মেই যে এই দিনটি পালিত হয়, তা নয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের ১০ দিন পর বিজয়োৎসব পালন করেছিল। তাই বৌদ্ধ ধর্মে এই দিনটিকে 'অশোক বিজয়া দশমী'ও বলা হয়। সম্রাট অশোক নিজে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
তবে বাঙালির কাছে বিজয়া দশমী শুধু পুজোর শেষ দিন নয়। এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আবেগ। মায়ের জন্য অনন্ত অপেক্ষা আর চোখের কোনে এক চিলতে জল নিয়ে প্রহর গোনা।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
