কালবেলা · সাধারণ
প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কেটে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন
১২/১০/২০২৬

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের এ নির্মম দৃশ্য মোবাইলেও ধারণ করা হয়। সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারিডাঙ্গী গ্রামে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছেন এবং চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে তার মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন। এ সময় ওই নারী আকুতি ও চিৎকার করলেও অভিযুক্তদের নির্মমতা থামেনি। বরং একপর্যায়ে তাকে মুখে সজোরে থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে ওই নারী ও এক যুবককে দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাদের মারধর করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি আসেন ওই প্রবাসীর স্ত্রী। সেদিন গভীর রাতে তার কক্ষে এক যুবককে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের দুজনকে আটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। রোববার বিকেলে ওই নারীর চুল কেটে দিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটক যুবককেও ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবক সরাসরি এই মারধর ও চুল কাটার ঘটনায় জড়িত। সুমন ওই এলাকার ইউসুফ বেপারির নাতি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্যাতিত গৃহবধূর পৈতৃক বাড়ি পাশের ইউনিয়নে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা জানান, অন্যায়ের বিচার করার আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু এভাবে কোনো নারীকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, কারা ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছে, সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের মূল ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗