শত কৌশল করেও রেহাই মিলল না। ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের তৈরি গ্রামীণ কল্যাণকে। তাঁর ওই সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মহম্মদ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের বেঞ্চ। এই সংক্রান্ত ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক রায় দুটি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ড. মহম্মদ ইউনুসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে দাবি করা এনবিআরকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেয় হাই কোর্ট। সেসময় গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন।” এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে বলে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনুস ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এনবিআরের দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে নতুন এই আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মহম্মদ মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাই কোর্টের বেঞ্চ। ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার পুরোটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন মহম্মদ ইউনুস। এরপর রিট খারিজ করে দেওয়া আগের রায় প্রত্যাহার করে নেয় হাই কোর্ট। তবে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে হাই কোর্টের নতুন বেঞ্চের সামনে ফের শুনানি শুরু হয়। সেই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন রায় ঘোষণা করা হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে প্রতিষ্ঠিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্য গ্রামীণ কল্যাণ অন্যতম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে বলে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনুস ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এনবিআরের দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে নতুন এই আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মহম্মদ মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাই কোর্টের বেঞ্চ। ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার পুরোটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এখন যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিস ইস্যু করে সরকার তার রাজস্ব আদায় করতে পারবে, যে রাজস্বটা গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ থেকে ফাঁকি দিয়ে আসছে। ডিমান্ড নোটিসটা ইস্যু করবে ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস। সাধারণত ৩০ দিন সময় দেওয়া হয় ডিমান্ড নোটিসে।
আয়কর বাবদ এক দশক আগে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করেছিল এনবিআর। সেটির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাই কোর্টে আলাদা দু’টি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। এরপর দফায় দফায় শুনানি শেষে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ সরকারের শেষদিকে উভয় রিট খারিজ করে রায় ঘোষণা করে হাই কোর্ট। এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ তারা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাবেন।
মূলত তহবিলের একটি অংশ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণ অধ্যাপক ইউনূসের হাতে গড়া আরেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায়, গ্রামীণ কল্যাণ প্রায় ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেয় গ্রামীণ টেলিকমকে। সেই অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের তহবিলে যে অর্থ জমা হয়ে থাকে, যা আয়কর যোগ্য বলে দাবি করেন এনবিআর কর্মকর্তারা। কিন্তু গ্রামীণ কল্যাণ সেটি মানতে নারাজ। এনবিআরের দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আলাদা দু’টি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট রুল দিয়েছে।
