কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। তাঁদের আজ দুপুরের পরেই বিএসএফ ও বিজিবির অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের পর হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার চৌদ্দগ্রামে একটি মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিবির কুমিল্লা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে শুক্রবার দুপুরেই হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আটক দুই পুলিশ সদস্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করায় আটক হন। আজ দুপুরের দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের পর তাদের হস্তান্তর করা হবে। এ সময় ১০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজসহ বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক ক্ষুদে বার্তায় ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থানার পাঁচ কনস্টেবল ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওই অভিযানে অংশ নেন।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করেন। পরে টহল দলের নেতৃত্বে থাকা এএসআই ইমরান হোসেন তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাঁকেও আটক করা হয়।
ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, পরে সেখানে উপস্থিত বিএসএফ সদস্যদের ডেকে এনে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় টহল দলের অপর চার সদস্য নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবিকে বিষয়টি জানান।
আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকাটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। সেখানে অভিযান চালানোর সময় সীমান্ত চিহ্নিত করা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর সকালে একই এলাকার ২০৫৯ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে র্যাবের একটি দল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা র্যাবের সদস্য রিদান বড়ুয়া, আবদুল মজিদ ও ওয়াহিদকে আটক করে স্থানীয় একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় দুই সোর্সকেও আটক করা হয়েছিল।
পরে বিএসএফ ও বিজিবির পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আট ঘণ্টা পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
