বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দেশের আবাসন খাতের পথিকৃৎ আলহাজ্ব জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের জহুরুল ইসলাম সিটির সাইট অফিসে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইসলাম গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পরিচালক ও সাইট ইনচার্জ অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আলতামাস করিম মরহুম জহুরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন। পরে মাওলানা মোস্তাফিজের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মরহুমের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দেশে পরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ১৯৬৪ সালে ইস্টার্ন হাউজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম রিয়েল এস্টেট কোম্পানি হিসেবে আবাসন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিডিসি) অন্যতম, যা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে।
রাজধানী ঢাকায় আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে তাঁর উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আওতায় ঢাকা শহরে মোট ২৯টি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যার কয়েকটি এখনো চলমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণেও তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের আঙিনা, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, হাইকোর্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট ভবন, এমপি হোস্টেল, নগর ভবনসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরাকেও তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহনির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মরহুমের ৩১ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট তার আত্মার মাগফেরাত এবং বেহেশতের মর্যাদা পূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত রাখতে গ্রামের বাড়ি সহ আরও কয়েক স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
