মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এবার শুকনো ইছামতী নদীতে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার বাহাদুরপুর পদ্মানদী সংলগ্ন ইছামতী নদীতে বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও ডেগিরচর গ্রামবাসী ও বাহাদুরপুর বাজার বনিক সমিতি বাইচের আয়োজন করে।
গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ইছামতী নদীর মোল্লাবাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে বাহাদুরপুর পদ্মাপাড় পয়েন্টে এসে বাইচ শেষ হয়।
বিভিন্ন বয়সের মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বাইচ প্রত্যক্ষ করেন। বিকাল থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা ও মাল্লার বাইচ শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর্যন্ত চলে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গণমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। গায়ানতরী আর গায়ানবাড়ী দুটি নৌকাকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। বাইচ দেখতে জেলার ঘিওর, শিবালয় ও সদর এলাকার লোকজনও এসেছে।
ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে বাইচ দেখতে এসেছেন আরশেদ আলী। তিনি জানান, ইছামতী নদী শুকিয়ে গেলেও অনেক মানুষ একসাথে বাইচ দেখলাম। তবে এই বাইচ পানি থাকার সময় হলে ভালো হতো।
বাল্লা ইউনিয়নের বুলবুল বলেন, ছোট কাল থেকেই বাহাদুরপুর ইছামতী নদীতে দুর্গা পূজার দশমীর পরের দিন বাইচ দেখছি, এবারও আসছি। তবে নদীতে পানি নাই, তারপরও অনেক মানুষ বাইচে আসছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বাহাদুরপুর বাজার কমিটির সভাপতি রজ্জব মন্ডল জানান, এক শত বছরেরও আগে এখানে গ্রামবাসীর আয়োজনপ নৌকাবাইচ শুরু হয়। দুর্গাপূজার দশমীর পর দিন এ আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে আমরা উৎসবের আমেজে প্রতিবছর এ আয়োজন করি। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি সদস্য সুভাষ ভদ্র (৭৮) বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ দেখে আসছি। পানি নাই তারপরও ঐতিহ্য রক্ষায় বাইচ দেয়া হয়েছে। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জুবায়ের ওমর।
