কালবেলা · সাধারণ
এনসিপি নেতার স্টোরিতে অস্ত্রসদৃশ বস্তু, তদন্তে পুলিশ
২২/১০/২০২৬

পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুক স্টোরিতে অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী। তবে বস্তুটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর মুছে ফেলা হয়। এর আগেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মুজাহিদ ফকিরের সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের অংশ দেখা যায়। তাদের একজন মেঝেতে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বস্তু রাখার পর অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। তবে ভিডিওতে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, ‘এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন জনমনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এমন ঘটনায় পদ হারিয়েছেন। মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে ঘনঘন এমন পোস্ট দিচ্ছেন। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে এ ধরনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা বস্তুটি আসল অস্ত্র কি না, তা পুলিশ যাচাই করছে।
ওসি আরও বলেন, বস্তুটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র হলে সেটির বৈধতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন, তবে ভিডিওটি দেখেননি। মুজাহিদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন তিনি।
অন্যদিকে নিজের ফেসবুক আইডি ‘পাবনা ১’ থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মুজাহিদ ফকির দাবি করেন, তিনি তিন-চার মাস আগে টিকটক থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করেছিলেন। সেটি ফেসবুকে থেকে যাওয়ায় তার দুই-তিন বছর বয়সী ছেলে হয়তো স্টোরিতে প্রকাশ করেছে।
মুজাহিদ বলেন, ‘কিছু সময় পর শুনি, এ বিষয়ে নিউজ হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗