বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রেতা গাড়ি হিসেবে পরিচিত টয়োটা করোলা এবার নতুন রূপে আসছে। জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের জনপ্রিয় এই গাড়ির বৈদ্যুতিক (ইভি) সংস্করণ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৯৬৬ সালে বিক্রির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি করোলা গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ বিক্রীত গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এখন পর্যন্ত এই গাড়িটি মোট ১২ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। তবে আসন্ন নতুন সংস্করণটি আগের মডেলগুলোর তুলনায় দেখতে ও চালনার অভিজ্ঞতার দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। প্রায় এক বছর আগে জাপান মোবিলিটি শোতে টয়োটা তাদের নতুন করোলা গাড়ির একটি কনসেপ্ট সবার সামনে তুলে ধরে।
সে সময় টয়োটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কোজি সাটো উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, করোলা কীভাবে আরও উন্নত হওয়া উচিত। এরপরই জাপানি এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গাড়িটিতে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে চমৎকার নতুন নকশা, আধুনিক প্রযুক্তির কেবিন ও প্ল্যাটফর্ম।
বর্তমান করোলা গাড়িতে যে টিএনজিএ-সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়, নতুন গাড়িতেও হয়তো সেটিই থাকবে। তবে টয়োটা এই প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এর ফলে গাড়িটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণসহ সব ধরনের ইঞ্জিন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবে।
জাপানি গণমাধ্যম এনএইচকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টয়োটার বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সাবেক সিইও আকিও টয়োডা জানান, নতুন প্রতিযোগিতার মুখে টিকে থাকতে তারা বাধ্য হয়ে পরিবর্তন আনছেন। তা না হলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
টয়োটা এখন পর্যন্ত অধিকাংশ তথ্য গোপন রাখলেও ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের এই করোলা পেট্রল, হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণে বাজারে আসবে।
টয়োটার প্রকৌশলীরা জানান, হাইব্রিড সংস্করণে নতুন ১ দশমিক ৫ লিটারের চার সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হবে। এগুলো একত্রে প্রায় ১৩৪ হর্সপাওয়ার শক্তি দিতে সক্ষম। নতুন হাইব্রিড ব্যবস্থাটি বর্তমান সংস্করণের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া এতে অল-হুইল ড্রাইভ (এডব্লিউডি) সংস্করণ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
টয়োটা এই প্রথম প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক করোলা মডেল বাজারে আনতে চলেছে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলে বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে। ফলে গাড়িটি ব্যাটারির সাহায্যে অনেক বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
টয়োটার এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি সিঙ্গেল ও ডুয়েল মোটর সংস্করণে পাওয়া যেতে পারে। একবার চার্জ দিলে গাড়িটি অন্তত ২৫০ মাইল পথ চলতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে গাড়িটি কবে নাগাদ আসবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি টয়োটা।
সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের মডেল হিসেবে ২০২৭ সালের যেকোনো সময়ে নতুন এই করোলা আত্মপ্রকাশ করতে পারে। গাড়িগুলো বাজারে আসার আগে দামের বিষয়টি জানা যাবে। তবে সংবাদমাধ্যম কার অ্যান্ড ড্রাইভারের তথ্য অনুযায়ী, পেট্রল সংস্করণের দাম প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে শুরু হতে পারে। হাইব্রিড সংস্করণের দাম হতে পারে প্রায় ২৭ হাজার ডলার। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িগুলোর দাম ৩০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
