গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিভাবকের দায়ের করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এবার ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি সড়কে অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করে মুসলেম উদ্দিন নামে সহকারী শিক্ষককে মারধর করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। এ সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে মাদরাসায় ভাঙচুর, হামলা ও ১৭ লাখ টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগ এনে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গত শুক্রবার বিকেলে শিক্ষীর্থীর বাবাসহ ১৫ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও মাদরাসায় ভাঙচুর ও হট্টগোলের সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার পর ওই অভিভাবকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। সেখানে তিনি মাদরাসার একটি টেবিলের উপরে থাকা গ্লাস ভাঙা ও এক পর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি সেখানে কোন মব সৃষ্টি করতে যাইনি। আমি বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কোনো বিচার পাইনি। আমি যা ভেঙেছি তার জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে চেয়েছি। আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় জানলাম আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আমার অপরাধ থাকলে আমি জেল খাটব। তবে আমি উপযুক্ত তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।”
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে।
এরই মধ্যে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফ তার নিজস্ব ফেসবুকের লাইভে এসে বক্তব্যে শিক্ষার্থীর বাবাকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও অভিভাবককে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের ভিডিও ও মন্তব্য চলছে। আমরা সব কিছুই মনিটরিং করছি। এ ঘটনায় উপযুক্ত তদন্ত করা হবে।
আশিকুর রহমান/এমটিআই
