পর্যটক টানতে এবার কবিগুরুর পাহাড় প্রেমকথা। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) অভিনব উদ্যোগ। কার্শিয়াং স্টেশন থেকে চালু হল ডিজেল ইঞ্জিন চালিত বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা ‘মুক্তধারা জয়রাইড’। রবিবার থেকে ওই পরিষেবা চালু হয়েছে।ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্শিয়াং থেকে মহানদী এবং মহানদী থেকে কার্শিয়াং রুটে যাতায়াত করবে টয় ট্রেনটি। পুজোর সময় থেকেই দার্জিলিংয়ে পর্যটনের মরশুম শুরু হয়ে যায়। টয় ট্রেনের যাত্রা উপভোগ করেন বহু পর্যটক। এবার সেই পরিষেবাকে আরও আকর্ষণীয় করতেই এই বিশেষ জয়রাইড। এমনই মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।
ডিএইচআর-এর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম ও পাহাড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্মারক হিসেবে এই নতুন পরিষেবার নামকরণ হয়েছে ‘মুক্তধারা’। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, কবিগুরু বিভিন্ন সময় দার্জিলিং পাহাড়ে এসে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। বিখ্যাত ‘পাগলাঝোড়া’-র রূপ তাঁর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে। কবিগুরুর অনুভূতির সঙ্গে টয়ট্রেনের মেলবন্ধন ঘটাতে সফরের নাম ‘মুক্তধারা’। পর্যটকদের অনন্য অনুভূতি উপহার দেওয়া প্রকল্পের লক্ষ্য।
ডিএইচআর-এর অধিকর্তা জানান, পর্যটকদের চাহিদা এবং স্থানীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে বিকেলে সময়সূচি সাজানো হয়েছে। কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ রোমাঞ্চকর সফর পর্যটকদের সামনে বিকেলের আলোছায়ায় পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য তুলে ধরবে। পর্যটকরা নতুন কিছু দেখার সুযোগ পাবেন।
জানা গিয়েছে, নতুন মুক্তধারা ট্রেনটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং স্টেশন থেকে রওনা দেবে। বিকেল ৫টার মধ্যে মহানদী ঘুরে ফের কার্শিয়াং স্টেশনে ফিরে আসবে। ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের ভ্রমণ। অল্প সময়ের মধ্যে ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো পাহাড়ি পাকদণ্ডী, আলোছায়া ঘেরা পথচলতি ছোট ছোট জনপদ, সবুজ চা বাগান পর্যটকদের সামনে এক নতুন দিগন্ত মেলে ধরবে।
