ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৯৪টি পদের মধ্যে ১০০টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায়, দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের পদ ৩০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর আটটি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৪৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৭টি। এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায়, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায়, এক্স-রে সেবাও বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায়, এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে এক্স-রে ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো কখনো চিকিৎসকের পরিবর্তে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীকে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যান্ডেজ ও সেলাইয়ের মতো কাজ করানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, নাক-কান-গলা, সার্জারি, হৃদরোগ, চক্ষু, চর্ম ও যৌনরোগ, মেডিসিন, শিশু ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদেও জনবল ঘাটতি রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ২০০ রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ না থাকায়, রোগীদের এসব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করেও সমাধান পাওয়া যায়নি।
