নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনাকালে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির বিষয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনা এবং বন্দরগুলোর দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি অর্থের সুরক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ পরিকল্পনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

