একটা সময় মনে হচ্ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি পেতে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দুজনেই। দুজনে খেলছিলেন সেভাবেই। কিন্তু তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছুতে পারেননি বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তবু বাংলাদেশ অবশ্য বড় লিডই পেয়েছে।
টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ২২৩/৬। প্রথম ইনিংসে ১২৩ রানের লিড পেয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অর্থাৎ দুই ইনিংস মিলিয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের লিড ৩২৯ রান। হাতে এখনো ৪ উইকেট।
তৃতীয় দিন শেষে ৫ রানে অপরাজিত লিটন দাস। তার সঙ্গে শূন্য রানে দিন শেষ করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় পঞ্চাশ পেরুতেই একে একে ফিরে যান সাদমান ইসলাম অনিক (১৩), মুমিনুল হক সৌরভ (৭) ও তানজিদ হাসান তামিম (৩১)। তানজিদ তামিম প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন, তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি।
সেই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটিটা ছিল ১৫৯ রানের। কখন উইকেটে পরে থেকেছেন আবার কখনো হাত খুলে রান তুলেছেন। দুজনই এগুচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।
১৪৮ বল খেলে ৯টি চারে ব্যক্তিগত ৮১ রানের মাথায় আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। খানিক বাদে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরেছেন ৮২ রান করে। কদিন আগে জ্বরের সঙ্গে লড়াই করা শান্ত ১৯১ বল খেলে ৫টি চারের সাহায্যে এই রান করেছেন।
এই দুজন ফিরলে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে হাসান মাহমুদ ক্রিজে আছেন। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগের বলে ফিরেছেন বাংলাদেশি পেসার।
এর আগে দিনের সকালটা অবশ্য হাসানেরই। গতকাল খুব একটা সুবিধা করতে না পারা হাসান আজ নতুন বল পেতেই জেগে উঠেছিলেন দুর্দান্তভাবে। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে আজ হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। হ্যাটট্রিকসহ সকালে তুলে নিয়েছেন চার উইকেট। তার সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন অপর পেসার ইবাদত হোসেনও।
দুজনের পেজে ৪ উইকেটে ২১১ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করা আফগানিস্তান আজ গুটিয়ে গেছে ২৪০ রানে। হাসান মাহমুদ ২১ ওভারে ৫৫ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে চারবার পাঁচ উইকেট নিলেন ডানহাতি পেসার। ১৭তম টেস্টেই ৫০ উইকেট হয়ে গেছে হাসানের। বাংলাদেশি পেস বোলারদের মধ্যে যেটা রেকর্ড। ১৮ টেস্টে ৫০ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদের দখলে এতোদিন ছিল পেসারদের মধ্যে দ্রুততম পঞ্চাশ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড। ইবাদত হোসেন ৫৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
আফগানিস্তানের হয়ে রহমত শাহ দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ১০৫ রান করেছেন আফগান অধিনায়ক।
