তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না জেলেদের দৌরাত্ম্য, নারীরাও ইলিশ শিকারে নেমেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর দশমিনা অংশের তেঁতুলিয়া নদীতে অব্যাহত রয়েছে মা ইলিশ শিকার। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারী জেলেরাও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন।
প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকলেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল ফেলে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, অর্থের বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকার চলছে। দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে নদীতে বিচরণ করছেন জেলেরা। ধরা পড়া মাছ নদীর তীরে এনে বিক্রিও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে সরেজমিনে গিয়ে মাছ শিকারের চিত্র দেখা যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে ট্রলার নিয়ে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জেলের অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেন, তাঁরা দিন-রাতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। অথচ সাধারণ জেলেরা অভিযানের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কয়েক জেলে বলেন, ‘আমরা গরিব জেলে। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। মাছ ধরতে না পারলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। আমরা আইনের বিরোধিতা করি না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’
অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে কয়েকটি নারী জেলের দল একাধিক ট্রলার নিয়ে তাঁর কর্ম এলাকায় মা ইলিশ শিকার করতে আসে। এসব জেলে মূলত বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় তাঁদের আটক করতে গেলে তাঁরা ছোট ছোট শিশুদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযানে বাধা সৃষ্টি করেন। এ ছাড়া জেলেদের স্বাধীনভাবে নদীতে মাছ ধরতে বাধা দেওয়ায় আমাদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, তিনি নিজেই তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক জেলেকে আটক এবং জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
