গত কয়েকমাস ধরে লাগাতার ককরোচদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজধানী। কখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে আন্দোলন, আবার কখনও ভোটচুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে পথে সিজেপি। যদিও লাগাতার এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি ফান্ডিং রয়েছে বলে উঠছে দাবি। এমনকী ভারত বিরোধী কোনও শক্তি ককরোচদের আন্দোলনের অর্থ জোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ সামনে আসছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে গোয়েন্দারাও। এর মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি পরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষের। তাঁর দাবি, আরামবাগের প্রান্তিক এলাকার কলেজ পড়ুয়াদের সিজেপির আন্দোলনে যেতে লক্ষ লক্ষ টাকার টোপ দেওয়া হচ্ছে। দেশবিরোধী আন্দোলনে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। প্রমাণ হিসাবে বেশ কিছু হোয়াটস অ্যাপে তাঁর কাছে আসা স্ক্রিনশটও দেখান তিনি।
বিমান ঘোষ দাবি করেন, সিজেপির নামের ওই সংগঠন দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালানোর পরিকল্পনা করছে।
পরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, রবিবার পরশুড়া বিধানসভার এক কলেজপড়ুয়া তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বেশ কিছু তথ্য তুলে দেন তিনি। বিধায়কের কথায়, যা একপ্রকার ভয়ংকর। কিন্তু কী সেই তথ্য? বিমান ঘোষ বলেন, তাঁর বিধানসভা এলাকার প্রান্তিক কলেজ পড়ুয়াদের সিজেপি অর্থাৎ ককরোচের আন্দোলনে গেলে দৈনিক ১০০ ডলার দেওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রত্যেকদিন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, সিজেপির সংগঠন-সহ একাধিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি বিজেপি বিধায়কের। এই বিষয়ে ওই ছাত্রের দেওয়া একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশটও সামনে আনেন তিনি। যদিও নিরাপত্তার কারণে সম্পূর্ণ কথোপকথন সামনে আনেননি। এমনকী ওই ছাত্রের পরিচয়ও সামনে আনেননি।
বিমান ঘোষ দাবি করেন, সিজেপির নামের ওই সংগঠন দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালানোর পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম ও ছবি প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ ছাত্রের কাছে ওই মেসেজ আসে। ওই মেসেজের সূত্র ধরেই সংগঠনটি সম্পর্কে কিছু তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন বিধায়ক। এই আন্দোলনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও সিপিএমের একাংশের যোগ থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিমান ঘোষ জানান, সংগঠনটির বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে জানানো হবে। খুব শীঘ্রই সমস্ত নথি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এনিয়ে কোথাও কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি।
