একরামুল হোসেন লিপু অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
নগরীর খানজাহান আলী থানার ফুলবাড়িগেট মিরেরডাঙ্গায় অবস্থিত খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালটিতে নেই কোনো নিরাপত্তা প্রহরী। চারিদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় অবাধে দিনে-রাতে বহিরাগতরা প্রবেশ করছে। প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে হাসপাতালের বিভিন্ন মালামাল। বুধবার রাতে সার্ভিস তার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে হাসপাতালটি। হঠাৎ দুর্ভোগে পড়ে হাম এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৮ জন রোগী এবং তাদের স্বজনরা। দুর্ভোগে পড়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্স। ১২ ঘণ্টা দুর্ভোগের পর সংযোগ দেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যুৎবিহীন হাসপাতালের হাম এবং ডায়রিয়া পৃথক দুটি ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত মারাত্মক অসুস্থ রোগীর স্বজনরা পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে তাদের বাতাস করছেন। আর অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কখন বিদ্যুৎ আসবে।
এ সময় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)’র গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান খুলনা গেজেটকে বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আমার মিসেসকে নিয়ে সকালে হাসপাতালে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই। জানতে পারলাম রাত ১২টার দিকে চোর সার্ভিস তার কেটে নিয়ে গেছে। এর আগেও তার চুরি হয়েছে। এক মাস পর গত পরশু সংযোগ দিয়েছে। গত রাতে আবারও চুরি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বজনরা সবাই কষ্ট পাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রব্য বেড়েছে, অসহ্য গরম। সকালে এসে এই অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি।
তিনি বলেন, হাসপাতালে সবার জন্য একটা সুস্থ, সুন্দর পরিবেশ দরকার। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকা দরকার। যেহেতু জরুরি রোগী থাকে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিবেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফ্রিদা তাসরিন বলেন, বুধবার রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমে মনে করেছি এমনি বিদ্যুৎ গেছে। কিন্তু সকালে জানলাম তার কেটে নিয়েছে। সাথে সাথে সিভিল সার্জন অফিসে জানিয়েছি। স্যার তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন। অফিস থেকে লোক এসেছে। ওনারা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব লোক এসে সংযোগ দিয়ে যাবেন। এর আগে একমাস বিদ্যুৎ ছিল না, সেটা হাসপাতালের বাইরে।
জানা গেছে, অরক্ষিত হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় প্রতিনিয়ত চুরি হয় বিভিন্ন ধরনের মালামাল। হাসপাতালের ৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জনই মহিলা। ভয় এবং আতঙ্কের মধ্যে রাতের শিফটে মহিলা চিকিৎসক এবং নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে হাসপাতালের জরুরি সিদ্ধান্ত নিতেন চিকিৎসকের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটির যে-কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাকিয়ে থাকতে হয় খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের দিকে।
খুলনা গেজেট/এএজে
