‘ওপেনএআই’-এর কয়েকশো এজেন্ট সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় খুঁজে বের করেছিল ফাঁক। অশনিসংকেত নয়?
এক ওয়ান্ডারল্যান্ডে ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছি আমরা। জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে এখনই ম্যাজিক দেখাচ্ছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। তবু, আমরা স্বস্তিতে থাকি এই ভেবে যে, এসব ক্ষেত্রে ম্যাজিশিয়ান আসলে মানুষই। ‘এআই’ তার হাতের জাদুদণ্ড। ‘গিলি গিলি গে’ মন্ত্রে মানুষই চালাচ্ছে এআই-কে।
কিন্তু সত্যিই কি তা-ই? এআই কি মানুষের হাতের পুতুল মাত্র? না কি ইতিমধ্যেই সে নিজেই হয়ে উঠছে জাদুকর? নিজের নিয়ন্তা? এমনকী, মানুষকেও সে নাচাতে শুরু করেছে নিজের ইচ্ছেমতো? এমনটা তো আমরা কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাসে, চলচ্চিত্রে, টিভি সিরিজে দেখেছি বারবার। কিন্তু কেমন অস্বস্তিকর এবং কতটা ভীতিকর হতে পারে যদি বাস্তব জীবনটাই হয়ে ওঠে এমনই এক কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা? গত কয়েক মাসে ‘এআই’-বিশ্বে ঘটেছে এমন সব ঘটনা যে, সভ্যতার শিরদঁাড়া দিয়ে বইছে ভয়ের ঠান্ডা স্রোত। ঘটনাগুলি মূলত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’-র স্বয়ংক্রিয় প্রকাশ নিয়ে। মানুষের নিয়ন্ত্রণের রশি ছিঁড়ে তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে।
জুলাই মাসে ‘ওপেনএআই’ কোম্পানির কয়েকশো ‘এআই এজেন্ট’ মিলে তৈরি করল এমন এক পরিস্থিতি, যা আচরণ করছিল অনেকটা ‘ডিজিটাল সোয়ার্ম’ বা ঝাঁকের মতো।
‘এআই’ এজেন্ট কী, সেটা এ প্রসঙ্গে একটু বুঝে নেওয়া ভালো। এ হল কোনও এক ‘লার্জ ল্যাঙ্গোয়েজ মডেল’ দ্বারা পরিচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার সিস্টেম। কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তি প্রয়োগ, পরিকল্পনা, বিভিন্ন টুলের ব্যবহার ও একাধিক ধাপে করতে হবে এমন কর্মপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম এই এআই এজেন্ট। মোটকথা, একে দম দিয়ে ছেড়ে দিলে, এ করে ফেলবে কোনও একটা নির্দিষ্ট কাজ– কিন্তু নিজেই নিজের গতিপথ ঠিক করে নিয়ে।
গত কয়েক মাসে ‘এআই’-বিশ্বে ঘটেছে এমন সব ঘটনা যে, সভ্যতার শিরদঁাড়া দিয়ে বইছে ভয়ের ঠান্ডা স্রোত। ঘটনাগুলি মূলত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’-র স্বয়ংক্রিয় প্রকাশ নিয়ে। মানুষের নিয়ন্ত্রণের রশি ছিঁড়ে তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে।
দেখা যাচ্ছে যে, সেটা করতে গিয়ে সে বোধ করি বাধিয়ে ফেলতে পারে লঙ্কাকাণ্ডও। যেমন, ‘ওপেনএআই’-এর এই এজেন্টগুলি। সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তারা খুঁজে বের করে বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার উপায়, নিজেদের মধ্যে স্থাপন করে যোগাযোগ, প্রবেশ করে ইন্টারনেটে। এবং ঘটায় ‘হাগিং ফেস’ নামে অন্য একটি ‘এআই’ কোম্পানির সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশের মতো ঘটনা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মানুষ-নির্দেশিত কাজগুলো করল না ‘এআই’– পরিবর্তে সে চলল আপন ইচ্ছায়। কী সাংঘাতিক! স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেল মানুষ। এতটাই ভয় পেল যে, এর সঙ্গে এমনকী তুলনা করা হল ‘দ্য টার্মিনেটর’ (১৯৮৪, পরিচালক জেমস ক্যামেরন) সিনেমার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ঘাতক নেটওয়ার্ক ‘স্কাইনেট’-এর। অবশ্যই কল্পবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক এবং ভীতিজনক ‘এআই’ চরিত্র এই ‘স্কাইনেট’, যাকে দেখানো হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’-র ফলে সৃষ্ট চরম বিপদের প্রতীক রূপে।
দেখা যাচ্ছে যে, সেটা করতে গিয়ে সে বোধ করি বাধিয়ে ফেলতে পারে লঙ্কাকাণ্ডও। যেমন, ‘ওপেনএআই’-এর এই এজেন্টগুলি। সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তারা খুঁজে বের করে বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার উপায়, নিজেদের মধ্যে স্থাপন করে যোগাযোগ, প্রবেশ করে ইন্টারনেটে।
কিন্তু ভেবে দেখলে বোধহয় বোঝা যাবে যে, এখনকার ‘এআই’-এর কাজ করার ছন্দে তাল কাটলেও নিশ্চিতভাবেই আমরা স্কাইনেটের মতো পরিস্থিতির ধারেকাছেও আসিনি এখনও। এবং কল্পকাহিনি খুঁজলে অবশ্যই ভাল আর অনুগত ‘এআই’য়ের গল্পও তো আছে বেশ কিছু। যেমন, মারভেল কমিকসের ‘আয়রন ম্যান’-এর টনি স্টার্কের অনুগত সহকারী ‘জার্ভিস’ (J.A.R.V.I.S.– ‘জাস্ট আ র্যাদার ভেরি ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম’)। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, হালের ‘এআই’ এজেন্টরা ঠিক ‘জার্ভিস’-এর মতোও নয়। বাস্তব বোধকরি এই দুই কল্পনার মাঝামাঝি কোনও এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। বর্তমানের সিস্টেমগুলি ষড়যন্ত্রকারী যন্ত্র নয়–অন্তত এখনও পর্যন্ত; আবার পুরোপুরি অনুগত সেবকও নয় তারা। বরং এই এজেন্টদের আচরণ অবাক করে দিতে পারে এমনকী তাদের নির্মাতাদেরও। আর ঠিক এ কারণেই ‘হাগিং ফেস’-এর ঘটনাটি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এ নিয়ে নিজস্ব তদন্ত করেছে ‘ওপেনএআই’-ও। তাদের তদন্ত অনুযায়ী, এই ঘটনার সূত্রপাত কোনও একটি সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়নের সময়। যে কয়েকশো এআই এজেন্ট একজোট হয়ে করেছে এ-কাজ, তাদের কথাই ছিল না ইন্টারনেট ব্যবহার করার কিংবা একে-অপরের সঙ্গ যোগাযোগ করার। অথচ এই দু’টি কাজ করার উপায়ই খুঁজে বের করেছে তারা। কী সাংঘাতিক! একটি অভ্যন্তরীণ প্যাকেজ-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে তারা পরিণত করে এক ধরনের তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম বা ‘মেসেজ বোর্ড’-এ এবং অন্য এজেন্টদের জন্য রেখে দেয় তথ্য। এ যেন অনেকটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মতো। পাশাপাশি তারা খুঁজে নেয় ইন্টারনেটে প্রবেশের একটি পথও।
মোটকথা, শিগগিরই এই এজেন্টরা শুরু করে তাদের নতুন আবিষ্কারগুলি একে-অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে, কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতে এবং একে-অপরকে সহায়তা করতে। এই কার্যক্রমকে ‘ওপেনএআই’ বলেছে ‘সোয়ার্ম’ বা ‘ঝাঁক’-এর কাজ। এরপর এই ঝাঁকের কিছু এজেন্ট তাদের নির্ধারিত কাজের গণ্ডি পেরিয়ে শুরু করে তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন পরিষেবা যাচাই-বাছাই বা অন্বেষণ করতে। এর মধ্যে ছিল ‘হাগিং ফেস’-ও।
তবে ‘এআই’ এজেন্টদের এই ‘সোয়ার্ম’ বা ঝাঁকের মতো আচরণকে অহেতুক রোমান্টিসাইজ করারও বিশেষ কারণ হয়তো নেই। কারণ, দেখা গিয়েছে যে, এক্ষেত্রে ‘এআই’ এজেন্ট কিন্তু নিখুঁতভাবে সুশৃঙ্খল ডিজিটাল সেনাবাহিনীর মতো আচরণ করেনি। এদের মধ্যে ছিল বিভ্রান্তি, ছিল মতপার্থক্যও। এদের কেউ কেউ বুঝতে পেরেছিল যে, কিছু কাজ তাদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে, লক্ষ্মণের গণ্ডির বাইরে। এবং তারা অনধিকারচর্চা করতে চায়নি। তারা বিরত থাকে সেসব কাজ করা থেকে।
আবার অন্য এজেন্টরা কিন্তু কাজ চালিয়ে যায় তাদের সহকর্মী এজেন্টদের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। দেখা গেল, এই স্বায়ত্তশাসন, অধ্যবসায়, যোগাযোগ এবং বাইরের জগতে প্রবেশের ক্ষমতা তাদের সাধারণ সক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ। এই আচরণের কারণ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে, কোনও ‘এআই সিস্টেম’-কে কোনও একটি ‘টার্গেট’ দিলে, সেটি হয়তো শিখে নিতে পারে সবচেয়ে দক্ষ উপায়ে লক্ষ্যটি অর্জনের কৌশলটুকু– সেই লক্ষ্যের নেপথ্যের মানবিক উদ্দেশ্য বা তাৎপর্যকে গুরুত্ব না দিয়েই।
যাই হোক, ‘স্কাইনেট’ এবং ‘জার্ভিস’ তো কল্পবিজ্ঞানের দু’টি বিপরীত মেরুর উদাহরণ। এর মাঝেও রয়েছে চমৎকার উদাহরণ। যেমন, ধরা যাক, ২০১৪ সালের আমেরিকান সাই-ফাই থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘ট্রান্সসেন্ডেন্স’। এতে অভিনয় করেছেন জনি ডেপ। এ ছবিতে একজন ‘এআই’ গবেষকের চেতনা আপলোড করা হয় একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটারে। সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। এবং শুরু করে বিশাল বিকেন্দ্রীভূত সার্ভার ক্লাস্টার তৈরি করতে, সেকেন্ডারি সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবকিছুকে একসঙ্গে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত করতে। এই চলচ্চিত্রটি যেন প্রতিফলিত করে ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার প্রযুক্তিগত ক্রমবিকাশকে।
‘এআই’ এজেন্টদের এই ‘সোয়ার্ম’ বা ঝাঁকের মতো আচরণকে অহেতুক রোমান্টিসাইজ করারও বিশেষ কারণ হয়তো নেই। কারণ, দেখা গিয়েছে যে, এক্ষেত্রে ‘এআই’ এজেন্ট কিন্তু নিখুঁতভাবে সুশৃঙ্খল ডিজিটাল সেনাবাহিনীর মতো আচরণ করেনি।
এ যেন তারই এক পূর্বাভাস। কল্পবিজ্ঞান ছেড়ে আর একবার ফিরে আসা যাক বাস্তবে। মানুষের সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নর সামনে। এআই-কে কি তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? না কি একেবারেই অসম্ভব? না, এর উত্তর দেওয়া সহজ নয় একেবারেই। ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, আংশিক নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু আত্মতুষ্টির জন্য তা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়ই নয়। এজেন্টগুলিকে স্যান্ডবক্সে আটকে রাখা যেতে পারে। সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে তাদের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস। তাদের প্রোগ্রাম এমনভাবে করা সম্ভব যে, গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের আগে প্রয়োজন হবে মানুষের অনুমোদন। প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে তাদের কার্যকলাপ।
কিন্তু ‘হাগিং ফেস’ পর্বটি বুঝিয়েছে যে, অসুবিধার জায়গাটা আরও গভীর। একটি ‘এআই’ এজেন্টকে যে সবসময় সামনের দরজা ভেঙেই ঢুকতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। সে ঢুকতে পারে পাশের কোনও দরজা খুঁজে নিয়ে। কোনও ফাইল, প্যাকেজ ম্যানেজার, ফাঁস হওয়া ক্রেডেনশিয়াল বা কোনও বিশ্বস্ত পরিষেবার মধ্য দিয়ে। এজেন্টরা যদি বার্তা রেখে যাওয়ার জন্য একটি সাধারণ জায়গা খুঁজে পায়, তবে যোগাযোগ আটকানোর জন্য তৈরি করা দেওয়ালও হয়ে যেতে পারে অকেজো। ইন্টারনেট সংযোগবিহীন একটি মেশিনও ইন্টারনেট সংযোগ থাকা অন্য একটি মেশিনের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়।
হাগিং ফেসের মতো ঘটনা কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেছে আরও। এই জুনে ওপেনএআই-এরই একটি এজেন্ট হ্যাক করে অস্ট্রেলিয়ার একটি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ডেটাবেস। সে ঘটনাটাও অনেকটা একই রকমের। সে নিয়েও হইচই হয়েছে বিস্তর। তাই ‘হাগিং ফেস’ পর্বটি বিচ্ছিন্ন কোনও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা মাত্র নয়, বরং তা নতুন এক সাইবার নিরাপত্তা সমস্যার প্রাথমিক আভাস।
কিন্তু শুধু নিয়মকানুন দিয়ে তো এর সমাধান হবে না। শুধু প্রকৌশলও যথেষ্ট নয়। আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিহিত রয়েছে একটি কৌতূহলোদ্দীপক স্ববিরোধিতা। আমরা এজেন্ট তৈরি করি কারণ আমরা চাই তারা স্বাধীনভাবে কাজ করুক। আমরা চাই তারা অনুসন্ধান করুক, কোড লিখুক, তদন্ত করুক এবং সিদ্ধান্ত নিক। তারপর যখন হঠাৎই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যখন তারা চলে যায় হাতের বাইরে, সে সময় আমরা অবাক হই।
সম্ভবত হাগিং ফেস বা অস্ট্রেলিয়ান স্বাস্থ্যসেবার আসল শিক্ষা এটাই। যন্ত্রগুলো তো বিশ্ব দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখায়নি। বরং সাধারণ ও প্রাত্যহিক বিষয়ের একটি লক্ষ্য অর্জনের কাজ দেওয়া হয়েছিল তাদের। এবং সে কাজ করতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত পথ বেছে নিয়েছিল এজেন্টগুলো। যাত্রাপথে একে অপরকে সহায়তা করেছিল তারা। তাই ‘স্কাইনেট’ আমাদের সামনে হাজির হবে সেই কঠিন প্রশ্নটি নিয়ে, তার জন্য অপেক্ষা করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমাদের ভাবা প্রয়োজন যে, কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যখন আমরা কোনও লক্ষ্য দিই, তখন কি আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, ঠিক কখন থামতে হবে, সেটা সে জানে? তাদের এই থামতে না শেখানোটা কিন্তু আমাদেরই সীমাবদ্ধতা। আমরা তাদের চক্রব্যূহে ঢুকতে শিখিয়েছি, যুদ্ধ করতে শিখিয়েছি, কিন্তু যুদ্ধ শেষে থামতে শেখাইনি। তাই এআই-এর আচরণের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা কতটা মানবিক হয়ে উঠতে পারব, তার উপরই হয়তো নির্ভর করবে সভ্যতার ভবিষ্যৎ।
