আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসছবি: Facebook/East Bengal FC
Published on
:
2 min read
ইতিহাসে প্রথমবার দাপটের সঙ্গে ISL শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। চার্চিল ব্রাদার্সের পর এ বার ইন্টার কাশীকে উড়িয়ে দিয়েছে লাল হলুদ শিবির। তবে ম্যাচ জয়ের চেয়েও বেশি নজর কাড়ল লাল-হলুদের আক্রমণভাগের বোঝাপড়া। তবে সবকিছু ঊর্ধ্বে ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসের মন্তব্য। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে তিনি ইন্টার কাশী ম্যানেজমেন্টকে তুলোধনা করলেন।
‘খেলার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল, ফোকাস এখন AFC-তে’
ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে খেলেছে ইস্টবেঙ্গল। আরও বেশি গোল হতে পারত কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে হাবাস বলেন, ‘মাঠের খেলায় পার্থক্যটা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। সবসময় অতিরিক্ত গোল করার চেয়ে দলের প্রয়োজন বোঝা বেশি জরুরি। সামনেই আমাদের AFC-র ম্যাচ রয়েছে। সেই কারণেই প্রথম একাদশে একাধিক বদল করা হয়েছিল। ফুটবলারদের চোটমুক্ত রাখা এবং খেলার সময় নিয়ন্ত্রণ রাখাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল।’
দলের ফুটবল দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের দর্শন খুব পরিষ্কার—সবাই মিলে আক্রমণ এবং সবাই মিলে রক্ষণ সামলানো। ফুটবলাররা পরিকল্পনা হুবহু ম্যাচে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে।’
লোবার জোড়া গোল এবং স্কোয়াড রোটেশন
ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই ম্যাচে প্রথমবার প্রথম একাদশে ছিলেন একে লোবা। আর তিনি জোড়া গোল ও অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন। AFC-র ম্যাচেও কি তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন? হাবাস কিছুটা ধোঁয়াশা রাখলেন। জানালেন সামনে টানা ম্যাচ থাকায় পরিস্থিতি ও প্লেয়ারদের ফর্মের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইন্টার কাশীর ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে তোপ
ম্যাচ শেষে নিজের প্রাক্তন ক্লাব ইন্টার কাশীর ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন হাবাস। ক্লাবের বর্তমান ফুটবলারদের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়েও ম্যানেজমেন্টের আচরণকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
ক্ষুব্ধ হাবাস বলেন, ‘ইন্টার কাশীর ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের নিয়ে আমার ভালো স্মৃতি আছে। কিন্তু ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট এবং যারা তাদের নতুন করে ২২ জন খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, তাদের ওপর আমি ক্ষুব্ধ। গত মরশুমের চুক্তি অনুযায়ী এখনও অনেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ নিজেদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক পায়নি। এটা কোনও স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।’
ইন্টার কাশীতে থাকার সময় হাবাসছবি: Inter Kashi
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত মরশুমে আমরা ইন্টার কাশীর জন্য কার্যত বিনামূল্যে কাজ করেছি, পুরো মরশুমের পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয়েছে। অথচ তারা নতুন দল গড়ে লিগ খেলছে। এই সত্যটা সবার জানা দরকার।’
উল্লেখ্য, এ বার ইন্টার কাশী পুরো ভারতীয় দল তৈরি করেছে। তাদের থেকে রোহিত দানু, সন্দীপ মান্ডিকে সই করিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
ইন্টার কাশীকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট ঘরে তোলার পর পুনে থেকে সরাসরি AFC খেলতে ওমানে উড়ে যাবে। ২৭ তারিখ আল সিবের বিরুদ্ধে খেলবে লাল হলুদ। সেই ম্যাচের আগে মাত্র একদিনের সময় পাবে। ফলে সেই চ্যালেঞ্জটা মাথা রেখেই ওমান উড়ে যাবে হাবাসের ছেলেরা।
