Published on
:
2 min read
আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ফুটবল কতটা পিছিয়ে, তা ফের সামনে এল। কলকাতার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ভারতের সিনিয়র মহিলা দল ০-৪ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হারল ০-৮ গোলে। তবে প্রথম ম্যাচে হারের পর আশা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে হয়তো কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ব্লু টাইগ্রেসরা। কিন্তু প্রতিরোধ তো দূরস্ত, উল্টে রবিবার সন্ধ্যায় দেখা গেল এক করুণ ও আত্মসমর্পণের।
মাত্র ১০ মিনিটেই লড়াই শেষ
ম্যাচের শুরুটা দুই দলের দিক থেকেই কিছুটা ইতিবাচক মেজাজে হয়েছিল। তবে সেই উন্মাদনা স্থায়ী হয়নি দশ মিনিটের বেশি। ধীরে ধীরে রুশ মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠের দখল নিয়ে ভারতীয় ডিফেন্সের দুই প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে শুরু করেন। ভারতীয় পোস্টের নিচে মোনালিসা দেবী শুরুতে দু-একটি আক্রমণ প্রতিহত করলেও লাগাতার চাপে ভেঙে পড়ে রক্ষণ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশে প্রথম গোলটি তুলে নেন দারিনা ইশমুখামেতোভা। এই ধাক্কা সামলানোর আগেই ২৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের চোখধাঁধানো দূরপাল্লার শটে ব্যবধান ২-০ করেন মারিনে আচোয়ান। মাত্র চার মিনিট পর, ২৯ মিনিটে ডায়ানা কিশমাখোভা স্কোরলাইন ৩-০ করে ভারতের ম্যাচ বাঁচানোর সব সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেন।
বিপর্যয় রুখতে মরিয়া ভারতীয় কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী ৩৬ মিনিটেই মালতী ও সিন্ডিকে মাঠে নামিয়ে দলের খোলনলচে বদলানোর চেষ্টা করেন। তবে লাভ হয়নি বিন্দুমাত্র। ৪২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দারিনা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মারিনে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করলে বিরতিতেই রাশিয়া ৫-০ গোলে এগিয়ে যায়।
একাধিক বদলেও বদলায়নি ছবি
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডাগআউট থেকে একাধিক পরিবর্তন আনেন দুই কোচই। ভারতের গোলপোস্টে নামানো হয় তরুণ কিপার নন্দিনীকে। মাঠে নেমেই তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ দিয়ে দলকে আরও বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের খেলায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি ভারত। ৫০তম মিনিটে রাশিয়ার পরিবর্ত ফরোয়ার্ড নাতালিয়া মাশিনা বক্সের বাইরে থেকে গতিতে ছিটকে বেরিয়ে ৬-০ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৭-০ তে নিয়ে যান তিনি। এরপর ৭৪তম মিনিটে এলিজাভেতা সেমেনোভা এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে অষ্টম গোলটি করে ভারতের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেই প্রকট হয়ে উঠেছে দুই দলের ফারাক। ৯০ মিনিটে রাশিয়ার বল পজেশন ছিল ৬৯ শতাংশ, ভারতের মাত্র ৩১। গোলের লক্ষ্যে রাশিয়া ১৬টি শট মেরেছে, যেখানে ভারতের আক্রমণভাগ পরীক্ষা নিতে পেরেছে মাত্র একবার। সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও রাশিয়া এগিয়ে ২৪-৪ ব্যবধানে। কর্নারের ক্ষেত্রেও রাশিয়া পেয়েছে ৬টি এবং ভারত একটিও নয়। ঘরের মাঠে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে এসে টানা দুই খেলায় ০-৪ ও ০-৮—সব মিলিয়ে ১২ গোল হজম করে মাঠ ছাড়তে হওয়া আসন্ন এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রইল ক্রিস্পিন ছেত্রীর মেয়েদের।
তবে সিনিয়র দল ব্যর্থ হলেও জুনিয়র দল বাজিমাত করে। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৭ মহিলা ফুটবল দল প্রথম দল হিসেবে পরপর দুটো মহিলাদের এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করল। যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বে মালয়েশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ভারত এশিয়ান গেমসে প্রবেশ করল।
