একজন ক্রীড়াবিদ শুধু মাঠের লড়াইয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন না, হয়ে ওঠেন সমাজ পরিবর্তনেরও দূত। শৈশবে খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন শিশুদের নিজেদের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি বদলে দিতে পারে পরিবার, গ্রাম এমনকি সমাজের দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের গল্প তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিশুদের এই সমাজ পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেছেন ঢাকা পোস্টের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার আরাফাত জোবায়ের।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুরে বিদ্যুৎ ও রাস্তার উন্নয়ন
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ায় তেমন খেলার সুযোগ হয় না বাংলাদেশের। ২০১৬ সালে এএফসি অ-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে সানজিদারা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ার মূল পর্বে খেলে। সানজিদাদের এই সাফল্য নারী ফুটবলে নতুন জাগরণ তৈরি করে।
সেই দলের অনেক ফুটবলারেরই বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের কলকিন্দুরে। অথচ ২০১৬ সালেও গ্রামটিতে ছিল না বিদ্যুতের সংযোগ। অন্ধকারে দিন কাটত মানুষের দিন-রাত, আর চলাচলের রাস্তাঘাটও ছিল ভাঙাচোড়া। সানজিদা-মারিয়াদের সাফল্য বদলে দেয় সেই চিত্র। তাদের অর্জনের পর কলসিন্দুরের প্রায় পাঁচশ বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছায়। এভাবেই মাঠের সাফল্য মাঠের বাইরেও পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
সানজিদারা এখন ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি পর্যায়ে। শিশু বয়সে সমাজে এমন প্রভাব রাখতে পেরে নিজেরা খুব পুলকিত বোধ করেন, ‘আমাদের জন্য গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে। এক দশক পর এটা ভাবলে যেন কেমন লাগে! ঐ সময় অনেক ছোট ছিলাম। এমন ঘটনায় তখন ভালোই লাগত। এখন বড় হয়েছি বুঝতে পেরেছি আসলে আমরা সমাজের জন্য কত বড় একটা প্রভাব রাখতে পেরেছিলাম।’
শিশুদের ফুটবল সাফল্যে স্কুল সরকারিকরণ
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বড় ভূমিকা রেখেছে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রাম। সেই গ্রামের একটি স্কুল কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই নারী ফুটবলের নতুন দিনের পথ চলা। ২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করে। সানজিদাদের নিয়ে প্রথম আসরে রানার্সআপ হয় কলসিন্দুর। পরের বছর দারুণ উদ্দমে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়।
কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সানজিদা-মারিয়াদের নিয়ে বাফুফে অ-১৪ জাতীয় নারী দল গঠন করে। ঐ দল এএফসি আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নও হয়। সেটাই ছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবলের প্রথম সাফল্য। সেই সাফল্যের পরই কলসিন্দুর বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়। কলসিন্দুর বিদ্যালয়ে খেলার সাফল্যের পেছনে শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের অবদান অনস্বীকার্য।
শিশুদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পাঠ্যবইয়ে
গারো পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অনেক কষ্টে বেড়ে উঠেছেন সানজিদা-শিউলিরা। এতো প্রতিবন্ধকতার পরও দেশকে এনে দিয়েছেন অনেক সাফল্য। তাদের ছোটবেলার সেই সংগ্রামের গল্প ও সাফল্য পাঠ্যবইয়েও জায়গা পেয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক শাখার একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে 'দ্য আনবিটেন গার্লস' (অপরাজিত মেয়েরা) শিরোনামে পাঠ্যবইয়ে একটি বিশেষ পাঠ রাখা হয়েছে। দারিদ্র্যতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সব কিছু পেছনে ফেলে তারা যেভাবে দেশের সাফল্য এনেছেন পাশাাপশি সমাজে পরিবর্তন করেছেন সেটা বড় অনুকরণীয়।
পাহাড়ি পথ সুগম ও বাড়ি মেরামত
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে এক দল নারী ফুটবলার যেমন উঠে এসেছেন, তেমনি দুর্গম পাহাড় থেকে এসেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। যিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার। ঋতুপর্ণা-মনিকা চাকমারাও ১৪-১৫ বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলছেন। তারাও ঐ বয়সে একই সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের সেই সফলতায় দুর্গম পাহাড়ে রাস্তা মেরামত হয়েছে। অথচ এক সময় তাদের অনেকেরই বাড়ি ছিল জরাজীর্ণ। দেশকে সাফল্য এনে দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মেরামত করে দেয়া হয়েছে তাদের বাড়ি।
বাল্যবিবাহ রোধে শিশুরা
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন প্রায় দুই দশক ধরে নারী ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অনেক নারী ফুটবলারকে দেখেছেন তিনি, যারা এক-দুই বছরের মধ্যেই খেলা ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের অনেকেরই ফুটবল থেকে হারিয়ে যাওয়ার পেছনে ছিল বাল্যবিবাহ। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। নারী ফুটবলে সাফল্য এবং খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ বাড়ায় মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও কমেছে বলে মনে করেন সাবিনা।
তিনি বলেন, ‘নারী ফুটবল মাঠে যেমন সফল, তেমনি সামাজিকভাবেও। ২০১৫ সালে অ-১৬ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে সমাজে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিভাবকরা মেয়ে ফুটবলারদের দ্রুত বিয়ে দিতে চান না। মেয়েরাও বিয়ে করছে না। ফলে বাল্যবিবাহের হার অনেকটাই কমেছে।’
নারী ফুটবলাররা সাবলম্বী হওয়ায় বাল্যবিবাহের চাপ কমেছে। তারা এখন পুরো দেশের আইকন। মারিয়া-সাবিনাদের অনুসরণ করে অন্য নারীরা ক্রীড়াঙ্গনে আসছে।
গত এক যুগের বেশি সময় বাংলাদেশ নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করছেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। খেলাধূলা বিশেষ করে ফুটবলের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের প্রবণতা কমেছে বলে মনে করেন এই সংগঠক। তিনি বলেন, ‘নারী ফুটবল নিয়ে কাজ শুরুর সময় অনেকেই ঝরে যেত। নানা কারণের মধ্যে পারিবারিক বাল্যবিবাহের চাপও ছিল। এখন মেয়েরা ফুটবলে আসছে এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। পরিবারও তাদের প্রতি আস্থা রাখছে। যার ফলে খেলাধূলায় আসা নারীদের বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেশ কমছে।’
নারী ফুটবলারদের বাফুফে শুধু ফুটবল-ই শেখায়নি একাডেমিক শিক্ষারও ব্যবস্থা করেছে। খেলা ও পড়া উভয় একসঙ্গে হওয়ায় আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মূল্যবোধ দুটোই হয়েছে নারীদের। যার ফলে মেয়েরা এখন নিজেরাই অনেক সচেতন এবং বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করছে। বাল্যবিবাহের চাপ এড়াতে অনেক ক্রীড়াবিদ খেলাধূলার ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তারা পরবর্তীতে অনেক খেলায় দেশের হয়ে পদকও এনেছেন। নিজেরা তো বাল্যবিবাহ করেনই না, উল্টো গ্রামে কোনো বাল্যবিবাহ হলে সেটা বাধা দেয়ার চেষ্টাও করছেন।
বাল্যবিবাহ রোধে শুধু নারীরাই নন, পুরুষরাও ভূমিকা রাখেন। অনেক পুরুষ ক্রীড়াবিদ সচেতনতার জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের বিয়ে করেন না। সমাজে বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখেন।
সমাজ পরিবর্তনে শিশুরা
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম এক উজ্জ্বল উদাহরণ। নারী ফুটবল দলের অনেকেরই ছিল না ঘর-বাড়ি। তাদের পরিবার তিন বেলা খাবার জোগাতেই হিমশিম খেত। দারিদ্র্যের কষাঘাতে সেই সমাজে বাল্যবিবাহ ছিল নিয়মিত ঘটনা।
ফুটবলের মাধ্যমে নারীরা সেই চিত্র পরিবর্তন করেছেন। তারা ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি আর্থিকভাবে পরিবারকে কিছুটা স্বচ্ছলতা এনে দিতে পেরেছেন। আঞ্চলিক পর্যায়ে কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নারী ফুটবলাররা। বিশেষ করে অ-১৬ নারী ফুটবল দল দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে দুবার এশিয়ার শীর্ষ আটের লড়াইয়ে ছিল। সাফ অঞ্চলে বাংলাদেশ অ-১৫, ১৮ এবং ১৭ দল কয়েকবারের চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। নারীদের দুর্দান্ত সব সাফল্যে কয়েকবার পুরস্কৃতও হয়েছে তারা। এর মাধ্যমে গৃহহীণ পরিবারের গৃহ এবং দিনমজুর বাবার পেশাও বদল হয়েছে।
নারী ফুটবল দলে দীর্ঘদিন কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। টাঙ্গাইলের সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগে অভিভাবকরা বাচ্চাদের ফুটবল কিংবা খেলাধূলায় দিত না। কৃষ্ণা রানী সরকার জাতীয় দলে খেলে সাফল্য অর্জনের টাঙ্গাইলে কোনো পরিবার শিশুদের খেলাধূলায় বাধা দেয় না। সবাই স্বাধীন মতো খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করছে। খেলাধূলায় অংশগ্রহণের ফলে অসামাজিক কার্যকলাপের সংখ্যাও কমছে।’
পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন
খেলাধূলায় নারীদের বিভিন্ন পোশাক পরে খেলতে হয়। কিছুদিন আগেও স্পোর্টস কস্টিউমের জন্য নারীদের অনেক কটু কথা শুনতে হতো। কট্যুক্তিকারীদের বড় অংশই ছিলেন পুরুষ। এখন সেই হার কমে এসেছে। সাধারণ পুরুষ ছাড়াও ঘরের স্বামী, ভাইরাও ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে আসতে নারীদের সহায়তা করছে।
সাবেক ভারত্তোলক ও জাতীয় ভারত্তোলন দলের কোচ শাহরিয়া সুলতানা সূচি বলেন, ‘আগে মেয়েরা স্টেডিয়াম এলাকায় চলাচল করলে অনেক কথাই শুনতো। মনে হতো নারী ক্রীড়াবিদরা যেন কোনো ‘চিড়িয়া’। এখন সেই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। পুরুষরা এখন নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বাইরে যেমন নারীরা সাপোর্ট পাচ্ছে, ঘরেও তেমন। একজন বাবা, স্বামী বা ভাই সমর্থন না করলে নারীর পক্ষে মাঠে এসে খেলা সম্ভব নয়।’
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে কয়েক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার করেছে। তবে দীর্ঘ এই সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রায় প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে রয়েছে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের মহিলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো। কিন্তু মূল সংস্থার প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অধিভুক্ত অনেক সংস্থার কার্যক্রম এখনো নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও নেই নিজস্ব কার্যালয়, আবার কোথাও কার্যালয় থাকলেও রয়েছে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক সংকট।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রায়ই নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে শিশুরা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বাধাগ্রস্ত হন। বিগত সময়গুলো এসব ক্ষেত্রে মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। সাবেক তারকা সাঁতারু নিবেদিতা দাস মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে আইন ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও দেখছেন, ‘মহিলা ক্রীড়া সংস্থা একটি নিপীড়ন বিরোধী সেল করতে পারে। সেই সেলের সুপারিশ, পরামর্শ দেওয়া ছাড়া কিছু করার থাকবে না। ফেডারেশনের কোনো ঘটনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার নেই মহিলা ক্রীড়া সংস্থার। কারণ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ফেডারেশনের একটি অধিভুক্ত সংস্থা। ফলে আইনত ও গঠনতান্ত্রিকভাবে ফেডারেশনের বিষয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারে না।’
মাঠ রক্ষার আন্দোলনে শিশুরা
রাজধানী ঢাকার কলাবাগানের তেতুলতলা মাঠে খেলাধূলা করতো স্থানীয় শিশুরা। হঠাৎ সেখানে থানার জন্য দেয়াল উঠে। সেই ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে শিশুরা। তারা খেলার মাঠে খেলতে চায়। পরবর্তীতে তাদের সেই আন্দোলনে জড়ো হন অভিভাবকেরাও। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। সেই আন্দোলনে অভিভাবকদের সঙ্গে সর্বক্ষণ ছিল শিশুরা। এক পর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থানা নির্মাণ বন্ধ করে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ হিসেবে রাখার নির্দেশনা দেন।
শিশুদের খেলাধূলা নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভাবনা ও ভূমিকা
‘আজকের শিশু, আগামীর ভবিষ্য’ বাংলাদেশের সমাজের চিরন্তন স্লোগান এটা। ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য। শিশুরা জুনিয়র পর্যায়ে খেলে পরবর্তী সিনিয়র দলে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জুনিয়র পর্যায়ে খেলার সময় অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। ফলে অনেক শিশুই খেলাধূলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।
সমাজ পরিবর্তনের বাহক হিসেবে কাজ করছে শিশুরা। সেই ধারা আরও বেগবান করার প্রচেষ্টা বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের স্লোগান, ‘ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’। আমরা ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতা দিয়েছি, যেখানে অনেক শিশুও রয়েছে। এতে অন্য শিশুরাও খেলার প্রতি আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি পরিবার দেখবে ক্রীড়াঙ্গনে আর্থিক নিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের শিশুকে খেলাধূলায় দিতে কার্পণ্য করবে না।’
শিশুদের বেড়ে উঠার জন্য প্রয়োজন মাঠ। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ অনেক জেলা শহরেই মাঠের অভাব। মাঠ না থাকলে শিশুরা বেড়ে উঠবে কিভাবে? তাই প্রধানমন্ত্রী মাঠকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি ইউনিয়নে মাঠ করার নিদের্শনা দিয়েছেন। যেন শিশুরা খেলাধূলার প্রকৃত সুযোগ পায়। এই লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।’
নারী শিশু অনেক সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়। আবার পুরুষ শিশু অনেক সময় কোচের বাজে আচরণেরও শিকার হয়। শিশুদের হয়রানি বন্ধে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স, ‘ক্রীড়াঙ্গনে কোনো নিপীড়নের সুযোগ নেই। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সচেষ্ট।’
১৪ বছর বয়সে দাবা চ্যাম্পিয়ন
অন্যতম বুদ্ধিভিত্তিক খেলা দাবা। জাতীয় দাবায় মাত্র ১৪ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মনন রেজা নীড়। তিনিই দেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাস্টার। ১৩ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক মাস্টার টাইটেল পান এই দাবাড়ু, যা উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদেরও আগে। বাংলাদেশের দাবায় নতুন সম্ভাবনার আলো এখন নীড়।
এজেড/এমএমএম
