রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর পিয়ারুল হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
এর আগে রোববার রাতে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুমন মন্ডল রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা মারকাজ মসজিদ এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর পাশের গেটসংলগ্ন পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাদের মধ্য থেকে এক মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন পিয়ারুলকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে রাজবাড়ী সদর থানার গোয়ালন্দ মোড় অতিক্রম করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত পিয়ারুলের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৭ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটিকে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের মধুখালী থেকে সুমন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার সুমন মন্ডলকে সোমবার দুপুরের পর আদালতে পাঠানো হলে তিনি বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি মূলত হত্যাকাণ্ডে তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএএস
