প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘পতিত ও গুপ্ত’দের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। তিনি বলেছেন, এ দুই ‘অপশক্তি’ শিগগরিই একত্রিত হবে, তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ ছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে দলের সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সভা শেষে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সংসদে সরকার দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তা ছাড়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় তদারিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সরকারদলীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
জানা গেছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়— এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আগামীতে ‘স্বৈরাচার ও গুপ্তরা’ (আওয়ামী লীগ ও জামায়াত) এক হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থী করতে নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার বার্তা দিয়েছেন সংসদ নেতা।
সভায় অংশ নেওয়া অন্তত চারজন সংসদ সদস্য আমাদের সময়কে বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদ সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী বা চাঁদাবাজ যেই হোক না কেন তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এ সময় রাড্ডা ঘটনার অভিযোগে দলের একজন নারী সংসদ সদস্যের পদত্যাগ স্মরণ করিয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন। প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাজের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো স্তরেই হয়রানি না ঘটে। একটি মহল দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে উল্লেখ করে এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য সংসদ সদস্যদের বিশেষ খেয়াল রাখতে বলা হয়। যেন তারা প্রতিটি এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র মতে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান এবং সংসদ সদস্যদের করণীয় ঠিক করে দেওয়া হয় এই সভায়। নির্বাচন যখনই হোক না কেন, তার প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশনা দেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয় কোন্দল বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সহ্য করা হবে না। যোগ্য, ত্যাগী এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই সামনের সারিতে নিয়ে আসতে হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ম্যান্ডেট প্রকৃত অর্থেই প্রতিফলিত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের দুজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, সভায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য সংসদ সদস্যদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠক শেষ হয়।
চিফ হুইপ বলেন, সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জনগণের কাছে সরকার জবাবদিহি করবে। সভায় সংসদ সদস্যদের নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি। এ ছাড়া আগামী মাসে সংসদ অধিবেশন আবার বসবে বলেও জানান চিফ হুইপ।
