হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের নিরসনে পূর্ববর্তী সভাগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে সিলেট বিভাগের সর্বস্তরের পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে পরিষদের জরুরি সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ফেডারেশনের বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব আলী।
সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবেদ সুলতান চৌধুরী তারেক, সিলেট জেলার ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমরান হোসেন জুনু এবং শ্রমিক নেতা বোরহান মিয়া, জাকারিয়া আহমেদ ও আজাদ মিয়াসহ অন্যরা। এ সময় সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে চলাচলকারী বাসকে এসএমএস বাস সার্ভিসের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এর আগে শ্রমিক কর্মবিরতি পালিত হয়েছিল। এ নিয়ে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গৌছের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট ইমরান আহমেদ চৌধুরী ও নাছের রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক এবং তিন জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিষদের নেতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংগঠনটির মহাসচিব সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা হয়। এতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান উপস্থিত ছিলেন। এরপর ৪ অক্টোবর একই কার্যালয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেনের সভাপতিত্বে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১১ অক্টোবর সিলেট সার্কিট হাউসে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আগের বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বৃহস্পতিবারের সভায় হবিগঞ্জের মালিক ও শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, সিলেটের হুমায়ুন রশিদ চত্বর ও চন্ডিপুল এলাকায় হবিগঞ্জের বাস থামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বাসের কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অন্যান্য পরিবহনের বাস এসব স্থানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেও হবিগঞ্জের বাসের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিরতিহীনভাবে চলাচলকারী হবিগঞ্জের বাসের কর্মীদের হয়রানি এবং একজনকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
সভায় এসব হয়রানি বন্ধ করে পূর্ববর্তী সভাগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়। পরিষদের নেতারা বলেন, একাধিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে না। বরং নতুন করে হুমায়ুন রশিদ চত্বর ও চন্ডিপুল এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, পূর্ববর্তী সভাগুলোর সিদ্ধান্ত অমান্য করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে এর দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিতে হবে। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
সভা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত মেনে বাস চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পরিবহন চলাচলে বাধা দিলে সিলেট বিভাগের সর্বস্তরের পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যেতে পারেন বলে সতর্ক করেন পরিষদের নেতারা। বিজ্ঞপ্তি
