রাজধানীর নতুন বাজার-মাদানী অ্যাভিনিউ সড়কটি নামেই ১০০ ফিট। বাস্তবে সড়কটির বড় একটি অংশ হকারদের দখলে থাকায় যান চলাচলের জন্য ১০ ভাগও অবশিষ্ট নেই। ফুটপাত ও সড়ক দখল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এ পথে চলাচলকারী মানুষ। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন যানজটের পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিতেও পরিণত হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন অংশে হকাররা এক বা দুই সারিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কোথাও কোথাও তিন থেকে চার সারিতে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। এতে মূল সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত ও পথচারীদের চলাচলের জায়গাও দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব শ্রেণির পথচারীর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এদিকে, সড়কটিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব যানবাহনের চালকদের অনেককে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল, যেখানে-সেখানে থামা এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি যানবাহনের সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সংযোগস্থলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। একদিকে হকারদের দখলে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ, অন্যদিকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং—দুইয়ে মিলে যান চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একই স্থানে হকারদের তিন থেকে চার সারির দোকান, অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং সড়কের পাশে পার্ক করা যানবাহন একসঙ্গে থাকায় কোনো কোনো অংশে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও যাত্রী ও পথচারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারীরা প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের স্থায়ী জট ও সংকুচিত চলাচলের জায়গা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অন্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো জরুরি প্রয়োজন বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
