কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা মিলেছে ৫০ ফুট দীর্ঘ এক দানবের! তবে এটা সত্যিকারের কোনো দানব নয়, দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্য। ব্যতিক্রমী এই দানব দেখতে সৈকতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভীড় করছে দেশি বিদেশি পর্যটক। দানব দেখতে টিকিট হিসেবে জমা দিতে হচ্ছে পরিত্যক্ত ২টি প্লাস্টিক বোতল। তবেই মিলবে প্রবেশাধিকার।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী চার মাস ধরে চলবে সৈকতে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশেষ থিয়েটার, যেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে কয়েক লাখ পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরতে এই আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষের সামনে দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে।
গত সোমবার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। ভাস্কর্যটি দর্শনার্থীদের কাছে প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে জানান তিনি।
ব্যতিক্রমী ভাস্কর্যের আয়োজক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষে পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি।
প্লাস্টিক দানব কোনো প্রকৃত দানব না হলেও প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতার এক প্রতীক। যা দেখে পর্যটকরা কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় শুধু সুন্দর স্মৃতি নয়, সমুদ্রকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ববোধও সঙ্গে নিয়ে ফিরুক এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
