শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কলিকাল চরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।
হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। হামলায় জড়িত কয়েকজন জেলেকে পদ্মা নদীর চরে ঘিরে রাখা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে অন্তত ৭১ কিলোমিটার পদ্মা নদী প্রবাহিত হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান শুরু হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে ইলিশ শিকার ও নদীতীরবর্তী অন্তত ২৫টি স্থানে তা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থানে দিনে-রাতে মা ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানেও ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম নিজে অভিযানে অংশ নেন।
সোমবার ভোররাতে সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের সফি কাজীর মোড় এলাকা থেকে অভিযান শুরু হয়। সফি কাজীর মোড় থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় ইলিশ শিকারের প্রায় দুই লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর উত্তর প্রান্তের কলিকাল চরে শতাধিক জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি ছিল। এ সময় তাঁরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন।
পরে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা জেলেদের ধাওয়া দিয়ে নদীর চরে ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছে। কয়েকজন জেলেকে আটক করার পর সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তাঁরা ফিরে এলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
শরীয়তপুর জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার। তাদের মধ্যে ইলিশ শিকার ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য এসব জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীর মিঠাপানিতে আসে। নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শরীয়তপুরের কিছু এলাকায় অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছেন। অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হচ্ছে। গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান পরিচালনা করে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাঁরা মা ইলিশ শিকার করছেন, তারা নিবন্ধিত জেলে নন এমন তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সোমবার ভোররাত থেকে অভিযান চালিয়ে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। আরও কিছু সময় নদীতে অভিযান চলবে। অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
যে আই
