ছবি: সংগৃহীত
-->অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার ৯৬ ঘন্টা পরে রাঙামাটি সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এদিকে দূর্গাপূজা ঘিরে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেক সড়ক অবরোধ স্থগিত করেছে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি দুই সংগঠন 'সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন'। এতে আপাতত পর্যটক ও স্হানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
এর আগে আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাহাড়ি দুই সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে চলমান সংঘাত আর সড়ক অবরোধের মধ্যে সাজেক ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। 'অনিবার্য কারণ' দেখিয়ে গেল রোববার, (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় দেয়া জরুরী গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। একইসাথে পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৫ টার মধ্যে সাজেক ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ঘোষণার পরই সাজেকে পর্যটক শুণ্য হয়ে পড়ে। স্হানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দূর্গাপূজার ছুটির মৌসুমে এমন পরিস্থিতির কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। সাজেক মাচালং বাজারেও এ উৎসব উদযাপিত হবে। ধর্মীয় উৎসবের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে দুই সংগঠনের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগে গেল ১১ অক্টোবর সকাল ৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসুচি ঘোষণা করে পাহাড়ি দুই সংগঠন 'সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন'। ওইদিন ১১ ঘন্টা পরে প্রশাসনকে তিনটি শর্ত দিয়ে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়ে কর্মসুচি স্থগিত করে। কিন্তু ওই দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ফের আজ (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসুচি পালন শুরু করে। তবে সন্ধ্যায় কর্মসুচি ২১ তারিখ পর্যন্ত স্হগিত করে বিবৃতি দেয় সংগঠন দুটি।
কর্মসুচির কারণ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়েছে - জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাজেকে অবস্থান ও সাধারণ জনগণকে হত্যার হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে গত ৮ অক্টোবর আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপরই আজ সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় -'গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকের ভুয়োছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং ক্যাম্পের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে একজন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে'।
জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন
