আমার স্ট্রাগল খুব বেশি ছিল না। তবে ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছি। কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়, তা ছোটবেলা থেকেই একটু একটু করে জেনেছি।
অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের কাজলরেখা সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় পরিচিতি পান তিনি। এরপর নীলচক্র সিনেমায় ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। অভিনয় ক্যারিয়ার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এ অভিনেত্রী কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা চৌধুরী প্রিয়ন্তী
অনেকেই বলেন, আপনি সুন্দর বলেই আপনাকে নিয়ে এত আলোচনা হয়। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন? আপনার ক্যারিয়ারে কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে?
আমার স্ট্রাগল খুব বেশি ছিল না। তবে ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছি। কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়, তা ছোটবেলা থেকেই একটু একটু করে জেনেছি। আমি জানি, কোনো কিছু একবারে পাওয়া যায় না। লক্ষ্যে পৌঁছতে পরিশ্রম করতে হয়। আমাকেও পরিশ্রম করতে হয়েছে, কিছুই বিনা চেষ্টায় পাইনি।
সৌন্দর্যকে জীবনের বাড়তি সুবিধা বলতে পারব না। মানুষ প্রশংসা করে, ভালোবাসে, ভালো বলে, এটা ঠিক। কিন্তু এর কারণে আমার জীবনে বিশেষ কোনো সুবিধা হয়েছে, তা বলতে পারব না। শেষ পর্যন্ত সবাইকেই পরিশ্রম করে সফলতা অর্জন করতে হয়।
কাজলরেখায় অভিনয় করার আগে এত লম্বা বিরতি নিলেন কেন?
কখনই ভাবিনি, চিত্রনায়িকা হব। ২০১২ সালে চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর টুকটাক কাজ শুরু করি। ২০১৫ সালে সিনেমার প্রস্তাব পেলেও তখন অভিনয়ে আগ্রহী ছিলাম না। পরিবার চাইত, ভালো কাজের মাধ্যমে আমাকে বড় পর্দায় দেখতে। মা চাইতেন, এমন চরিত্রে অভিনয় করি যা দেখে মানুষ আমাকে মনে রাখবে।
স্বপ্নজালের প্রস্তাব পেলেও করা হয়নি। পরে ২০২০ সালে কাজলরেখার প্রস্তাব পেয়ে মনে হলো, এমন সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। আমি বরাবরই বেছে কাজ করতে চেয়েছি। সব চরিত্র আমার সঙ্গে মানাবে কিনা সেটাও বিবেচনা করি। কাজলরেখা ও নীলচক্রতে দর্শক আমাকে ভিন্ন দুটি চরিত্রে দেখেছেন। এবার আরো ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে চাই, তাই অপেক্ষা করছি।
আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভাবে অনেক শিল্পী সংগ্রাম করছেন। তাদের পরিস্থিতি কীভাবে দেখেন?
আমাদের ইন্ডাস্ট্রি খুব বেশি বড় নয়। পরিচিত অনেক শিল্পী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছেন, কাজের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাদের কেউ কেউ শুধু অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন। কিন্তু বছরে একটি কাজ করে সেই পারিশ্রমিকে সারা বছর চলা কঠিন। ওটিটি ও ইউটিউবের মতো প্লাটফর্ম বাড়লেও কাজের পরিমাণ সেভাবে বাড়ছে না।
অথচ আমাদের ভালো গল্প, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা আছেন। কেন কাজের সুযোগ বাড়ছে না, তা নিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
তবে সংকট শুধু আমাদের দেশে নয়। বলিউড ও টালিউডেও বিভিন্ন সময়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, জনপ্রিয় তারকাদের সিনেমাও ব্যর্থ হয়েছে।
নারী অভিনয়শিল্পীরা কি নিজেদের মেলে ধরার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুযোগ পান?
অবশ্যই। কোনো সিনেমা হিট হলে অনেক সময় কৃতিত্ব দেয়া হয় নায়ককে। বলা হয়, ওই নায়ক ছিলেন বলেই সিনেমাটি হিট হয়েছে, নায়ক ছিলেন বলেই নায়িকা ভালো করেছেন, নইলে হয়তো পারতেন না। এ ধরনের কথা প্রায়ই শোনা যায়।
আমি খুব ভাগ্যবান যে কাজলরেখার ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি। ভবিষ্যতেও যেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সেটাই আশা করি।
কাজলরেখায় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। তিনি গুণী একজন মানুষ, তার সঙ্গে আরো কাজ করতে চাই। কাজলরেখার চিত্রনাট্য পড়ে প্রথমে মনে হয়েছিল, চরিত্রটি আমার জন্য নয়। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। চরিত্রটির সময়কাল, ভাষা ও জীবনের নানা উত্থান-পতন বুঝে ওঠা সহজ ছিল না। নিজের সঙ্গে সেই সময়ের সংযোগ তৈরি করে চরিত্রটি ধারণ করার চেষ্টা করেছি।
আমি কখনই চিত্রনায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। নৃত্যশিল্পী হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলেও নাচ জানা মানেই অভিনয় জানা নয়। তখন অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও খুব বেশি ছিল না। এখন যদি চরিত্রটি পেতাম, মনে হয় আরো ভালো করতে পারতাম। তার পরও দর্শক আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন। দর্শকের এ ভালোবাসাকে আমি সৌভাগ্য হিসেবেই দেখি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যগুলো কীভাবে সামলান?
নেতিবাচক মন্তব্যে আমার খুব একটা কষ্ট হয় না। ছোটবেলা থেকেই নানি ও মা শিখিয়েছেন, মানুষ যেমন ভালোবাসবে, তেমনি সমালোচনাও করবে। নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সময়ও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তখন থেকেই বুঝেছি, সবাই আমাকে ভালোবাসবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। ভালোবাসা গ্রহণ করতে শিখলে সমালোচনাও গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কি সিন্ডিকেট আছে বলে মনে করেন?
আছে বলে মনে হয়। আমি কোনো সিন্ডিকেটের মধ্যে নেই, তবে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি। এত ছোট একটি ইন্ডাস্ট্রিতে, যেখানে কাজেরই সংকট রয়েছে সেখানে সিন্ডিকেট করে কী লাভ? যারা এসব তৈরি করেছেন, তারা হয়তো মনে করেন, একই মানুষকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে ভালো কিছু করছেন। কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়াও তাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত।
