ছবির ‘বাজ’ কেমন টের পাচ্ছেন? ‘বিগ বস বাংলা’-য় গেলেন ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’-র প্রচারে।
– খুবই ভালো। দাদার সঙ্গেই ফ্লাইটে ফিরলাম। বললেন, এপিসোডটা খুব ভালো হয়েছে। গানের খুব প্রশংসা করছিলেন।
এ বারে তো মাঝগঙ্গায় রোমান্টিক গানের শুটিং করেছেন।
– ওটা খুব শক্ত ছিল। জোশে করে দিয়েছি। কিন্তু তীর বেগে নৌকা যাচ্ছে, অন্যদিকে আমার দুটো হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা, কিছু ধরার কোনও অবকাশ নেই। সেইখানে দাঁড়িয়ে নেচেছি! কিছু একটা ভর করেছিল হয়তো করে দিয়েছি। তার ওপর লুঙ্গি পরেছিলাম। একটু এদিক-ওদিক হলেই ছিটকে পড়ে যেতাম। (হাসি)
“সব রাজনীতিবিদ ডাকাত নয়, কিছু রাজনীতিবিদ মানুষের বিশ্বাসকে ঠকিয়ে ডাকাতি করেছেন।”
সঙ্গে কৌশানী থাকায় কি একটু বেশি ভরসা পেয়েছেন?
– না, না। সিনেমার জোশে করে দিয়েছি। সেই ‘নান্দীকার’-এর মেথড অ্যাক্টিং বেরিয়ে এসেছিল।
২০২৪-এ ‘বহুরূপী’র প্রথম পর্ব আসে। এখন ২০২৬ ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’ আসছে পুজোয়। দু’বছর ধরে ‘বিক্রম’ এর মতো ডাকাত-বহুরূপীর চরিত্র নিজের ভেতরে লালন করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
– আমার কাছে ‘বহুরূপী’ পার্ট ওয়ান আর এবারের ‘গোল্ডেন ডাকু’ দুটো আলাদা সিনেমা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আজকাল কোনও দোকানে গেলে সিসিটিভি কোথায় আছে, সেই দিকে অজান্তে চোখ চলে যায়। তারপরে দরজার বাইরে সিকিউরিটি আছে, না নেই সেদিকে নজর পড়ে। হঠাৎ চোখ চলে যাচ্ছে, ক্যাশবাক্স কোনদিকে। অন্যদিকে নিজেকে বলছি, দেখব না! ক্রমশ নিজেকে একটু ভয় লাগছে আমার (হাসি)।
ছবিতে আপনি নিজে ডাকাত। সাম্প্রতিক কালে রাজনীতিকদেরও ডাকাতিয়া রূপ দেখা গিয়েছে। কী বলবেন সেই প্রসঙ্গে?
– সব রাজনীতিবিদ ডাকাত নয়, কিছু রাজনীতিবিদ মানুষের বিশ্বাসকে ঠকিয়ে ডাকাতি করেছেন। মানুষের বিশ্বাসকে যাঁরা ঠকিয়েছেন তাঁদের কোনওদিন ক্ষমা করা যাবে না। বিক্রম প্রামাণিক বা আমরা যে ডাকাতদের কথা বলি, যে মানুষদের ঠকানো হয়েছে, তাদেরই প্রতিনিধি। সিনেমাটা দেখলে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
“ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হোক বা বাইরের– মানুষের ভিতরেই বহুরূপী কথাটা আছে, যে তার রূপ বদলায়।…”
নিজেই বলছেন, রাজনীতিবিদরা ততটাও ভালো নয়…
– সবাই নন, কেউ কেউ। কেউ রাজনীতিকে ব্যবহার করেন নিজের সুবিধার্থে, কেউ হয়তো সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছেন।
যে মানুষ ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়, এই ‘বহুরূপী’ কথাটার একটা নেতিবাচক দিকও আছে। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন ‘বহুরূপী’ দেখা যায়। আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?
– আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হোক বা বাইরের– মানুষের ভিতরেই বহুরূপী কথাটা আছে, যে তার রূপ বদলায়। কে ভালো রূপে বেশি থাকতে চায়, কে খারাপ রূপে বেশি থাকতে চায়, নির্ভর করে মানুষটার ওপর।
এখন, ‘দেশু’ জুটি আর শিবপ্রসাদ-কৌশানী জুটির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা চলে আসছে। কী বলবেন?
– আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি নন্দিতা এবং শিবপ্রসাদ। যারা বিগত ২৫ বছর ধরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে যে ভল্যুমের কাজ দিয়ে গেছে, এক জীবনে একটা জুটির পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। তারা একটা চ্যানেল পশ্চিম বাংলার জন্য এনেছে। যে চ্যানেলটায় এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষের পেশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রায় ১৫ হাজার ঘণ্টার ওপর টেলিভিশনের প্রোগ্রাম করেছে। একসময় তারা বাংলায় বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো শুরু করেছে। তারা প্রায় ২৮টির ওপর ছবি প্রযোজনা করেছে। যে ভল্যুমের কাজ করেছে বলার মতো। একটা জুটি হিসেবে যখন বলি আমরা, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়– কতদিন ধরে আর কতটা ভল্যুমে কাজ তারা করেছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এখানেই নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটির সার্থকতা। যে তারা কী দিয়ে গেছে ইন্ডাস্ট্রিকে।

নিশ্চয়ই। তবে এখানে অনস্ক্রিনের কথা বলছি। আপনাকে-কৌশানীকে পর্দায় দেখা যাবে। অন্যদিকে দেব-শুভশ্রীকে পর্দায় দেখা যাবে। একটা তুলনা আসবেই। সেটা তো অস্বীকার করতে পারেন না।
– না, আমার ধারণা সবথেকে বড় জুটি হয়ে দাঁড়াবে যিশু এবং শিবপ্রসাদ। এটা মিলিয়ে নেবেন (হাসি)। ডাকাত-পুলিশের যে ভয়ংকর লড়াই, অসাধারণ বুদ্ধির লড়াই, সেটাই এ বারের আসল জুটি।
“এখানেই সেই জুটির পর্দার সাফল্য যে, যখন তাদের নিয়ে অনেক গুজব বা কিছু তৈরি হয়। যারা সফল তাদের নিয়ে নানা কল্পনা তৈরি হয় তখনই।”
আগে একাধিকবার আবির চট্টোপাধ্যায় আপনার সঙ্গে ছিলেন। এবার আপনার প্রতিপক্ষ শিবিরে আবির। কী বলবেন?
– আবিরকে বলব, ‘আমাদের ছবিটা দেখবেন, বড়বাবু।’ (হাসি)
চারদিকে কৌশানী আর আপনাকে নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আপনাদের দারুণ রসায়ন তৈরি হয়েছে নাকি?
– এখানেই সেই জুটির পর্দার সাফল্য যে, যখন তাদের নিয়ে অনেক গুজব বা কিছু তৈরি হয়। যারা সফল তাদের নিয়ে নানা কল্পনা তৈরি হয় তখনই। পর্দায় সেই জুটির কাজ যদি ভালো হয়, সেটা নিয়েই তখন আলোচনা হয়। তাহলে বলব, ‘ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে’ গানটা খুব ভালো হয়েছে। বা আমাদের অন্য গানগুলোও ভালো হয়েছে। এটাই জুটির সাফল্যের জায়গা।
এই মাঝের দুটো বছরে কৌশানীর মধ্যে কী পরিবর্তন দেখলেন?
– অভিনেত্রী হিসেবে এই সিনেমায় কৌশানী অনবদ্য কাজ করেছে। খুব পরিণত চরিত্র ছিল। একদিকে এই সিনেমায় সে মা, বউ, পকেটমার, ডাকাত– এতগুলো রূপে সে আছে। সার্থক তার ‘বহুরূপী’ নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা। এবং এই পুজোতে যদি কোনও গান সত্যিকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কৌশানীর অভিনীত গান ‘ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে’। অন্যতম বড় কৃতিত্ব কৌশানীকে দেব গানে-অভিনয়ে সে যেভাবে কাজ করেছে, অনেকটাই পরিণত এখন।
