ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ১৬ বছর পর দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিলি-ফিলিস্তিন বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ পালন করতে যাচ্ছে চিলি। নতুন আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
গত ২২ অক্টোবর চিলির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ২১ হাজার ৮৪৩ নম্বর আইনে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার ‘বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে দুই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় চিলির অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনটিতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে দুই জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক উদ্যাপনে স্মারক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নীতিমালা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উত্থাপিত হয় আইনটির প্রস্তাব। পরবর্তী সময়ে এটি সিনেটে পাঠানো হলে সেখানে কয়েক দফা সংশোধনী আনা হয়। সিনেটে অনুমোদনের পর চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য প্রস্তাবটি আবারো চেম্বার অব ডেপুটিজে পাঠানো হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পায় প্রস্তাবটি। এর মধ্য দিয়ে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হয়।
সংসদীয় আলোচনায় আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিনেটর ভ্লাদো মিরোসেভিচ বলেন, ‘আমি এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছি, কারণ এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলে, যা চিলির কাছে অপরিচিত নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের ও আমাদের ইতিহাসের কথা বলে।’
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের বংশধরেরা চিলির শিল্প, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের মাতৃভূমি ফিলিস্তিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও বজায় রেখেছেন।
সিনেটর সের্হিও গাহোনাও আইনটিকে নিছক প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের ওপর ভোট দেওয়া মানে শুধু ক্যালেন্ডারে একটি দিন নির্ধারণ করা নয়; বরং এমন একটি জনগোষ্ঠীকে গভীরভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা আমাদের দেশের আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
গাহোনার মতে, বেথলেহেম, বেইত জালা ও বেইত সাহুর থেকে আসা পরিবারগুলো চিলির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই আইন সেই অবদান এবং চিলির সমাজে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর গভীর শিকড়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আরএ
