সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার (চাচাতো ভাইয়ের ছেলে) কোদালের কোপে আবুল কালাম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবুল কালাম উত্তর চন্দনগাঁতি গ্রামের মৃত গনি শেখের ছেলে।
একই ঘটনায় নিহতের ভাবি হাফিজা খাতুন ও ভাতিজা কামরুল হাসান গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে বেলকুচি উপজেলার ভাঙাবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর চন্দনগাঁতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বদিউজ্জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আমরা ইতোমধ্যে নিহতের চাচাতো ভাই মান্নান শেখ ও তার বেয়াইনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। বাকী আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে আবুল কালামের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মান্নান শেখের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
এরই জেরে শনিবার সকালে আবুল কালামের মালিকানাধীন শালবাগানের গাছ কাটতে যায় চাচাতো ভাই মান্নান শেখ, তার ছেলে আরিফসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। খবর পেয়ে আবুল কালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাতিজা আরিফ তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আবুল কালামের মাথায় আঘাত করে।
এ সময় আবুল কালামকে রক্ষায় তার ভাবি হাফিজা খাতুন ও ভাতিজা কামরুল হাসান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কালামের মৃত্যু হয়।
